গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে নিন্দা নাহিদ ইসলামের

Printed Edition
first-4
গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে নিন্দা নাহিদ ইসলামের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকা নিয়ে একটি মামলা দায়েরের অপচেষ্টা করা হয়েছে। তবে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেননি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়; বরং জুলাই বিপ্লবের চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।

তিনি আরো বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অপচেষ্টা প্রমাণ করে যে, পাঁচ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, মামলা কিংবা ভয়ভীতির মাধ্যমে এই নেতৃত্বকে দমন করার চেষ্টা অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে।

সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অপসারণ দাবি এনসিপির

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন, অতি দ্রুত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অভিসংশনের মাধ্যমে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে তাকে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি জুলাই গণহত্যার সময়ও নির্বিকার ছিলেন বলে অভিযোগ করেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে সম্মান জানিয়ে অনেক ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার পরও সংসদে গিয়েছি। কারণ এত কারচুপির পরও জনগণ আমাদের কয়েকজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, উচ্চ কক্ষ গঠন এবং সংবিধান সংস্কারের ম্যান্ডেট নিয়েই আমরা সংসদে গিয়েছিলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম ফ্যাসিস্টের দোসরমুক্ত সংসদ দেখতে চাই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকারের প্রথম সংসদ সুন্দরভাবে শুরু হলেও সেখানে ফ্যাসিবাদের দোসর রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়েছে। এতে জুলাই আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে গঠিত সংসদের সাথে একধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের বিষয়ে নিজেদের মতামত দেয়ার সুযোগ চেয়েও তা পাননি।

‘মাননীয় স্পিকারকে আমরা বলেছিলাম রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে আমাদের বক্তব্য রয়েছে; কিন্তু সে সুযোগ না দিয়েই রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করেছি,’ বলেন তিনি।

ইফতার পূর্ববর্তী আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই; কিন্তু ময়মনসিংহে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি এবং শুকিয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ব্যবসা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘এই বিভাগীয় শহরে এসে দেখলাম ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম। শহরটি এখনো গুছিয়ে উঠতে পারেনি। আমরা দোয়া করি, যারা জনগণের সেবা করতে চান তারা যেন ময়মনসিংহকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর বিভাগীয় শহরে পরিণত করতে পারেন।’

এ সময় অসুস্থ বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, ‘বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস সাহেব হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ইফতারের আগ মুহূর্তে আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পান।’

বিভাগীয় ইফতার মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়াজ মেহরাব তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মোজাহিদ এমপি, দলের নেত্রী তানহা শান্তা, ডা: জাহিদুল ইসলাম, জাহিদ আহসান, খান তালাত মাহমুদ রাফি, আশিকিন আলম, ইকরাম এলাহী খান প্রমুখ।