গাজীপুরে দুই শিশু হত্যাকাণ্ডে মা গ্রেফতার
Printed Edition
গাজীপুরের টঙ্গীতে চাঞ্চল্যকর দুই ভাই-বোনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাদের মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যামামলা দায়ের করা হয় । ওই মামলায় পুলিশ শিশুদের মাকে গ্রেফতার করেছে । মায়ের বাম হাতের আঙুল কাটা থাকায় সন্দেহজনকভাবে তাকে গ্রেফতার করে বলে পুলিশ জানায় । তবে এখনো প্রকৃত ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। শনিবার টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ এসব তথ্য জানায় । নিহত শিশু আব্দুল্লাহ (৩) ও মালিহা (৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার তাতুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল বাতেনের সন্তান। তারা সপরিবারে পূর্ব আরিচপুর এলাকার জনৈক সানোয়ারের আটতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন । শুক্রবার বিকেলে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদি তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩০), বড় মেয়ে বর্ষা আক্তার ফাতেমা (৯), ছোট মেয়ে মালিহা আক্তার (৬) ও এক ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (৩) কে নিয়ে টঙ্গীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন । শুক্রবার বেলা আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে তাদের বাবা কাজের জন্য বাসা থেকে বের হয়ে চলে যান । বাইরে যাওয়ার পরপরই তার বড় মেয়ে বর্ষা আক্তার ফাতেমা (৯) বাসা থেকে বের হয়ে বড় চাচার বাসায় যায় । তখন তার স্ত্রী আলেয়া বেগম ও ছোট মেয়ে মালিহা আক্তার ও ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বাসায় ছিল । শিশুদের বাবা বাতেন বলেন, আমার স্ত্রীর একটু মানসিক সমস্যা ছিল । তার চিকিৎসাও চলছিল । আমার স্ত্রী খারাপ না।। কারা আমার দুই সন্তানকে হত্যা করল, আমি তাদের বিচার চাই ।
শিশুদের নানা আরফান মিয়া ও নানী শিল্পী বেগম বলেন, তাদের মেয়ের জামাই আব্দুল বাতেন দুই বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে আসে । তার আগ থেকেই মেয়ের মানসিক সমস্যা দেখা দেয় । পরে তার স্বামী বিদেশ থেকে এসে চিকিৎসা করালে ভালো হয়ে যায় । আলেয়ার সমস্যা দেখা দিলে সে কখনো ভাঙচুর কিংবা উগ্র আচরণ করত না । তবে স্বামীর ঘরে থাকলে বাবার বাড়ি চলে আসত আর বাবার বাড়ি থাকলে স্বামীর বাড়ি চলে যেত । ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহসহ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে বাদির স্ত্রী আলেয়া বেগমকে (৩০) সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে । প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাদির স্ত্রী আলেয়া বেগম এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন । তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে আরো গভীর তদন্তের প্রয়োজন । এ ছাড়া আরো বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, শিশুটির মায়ের বাঁ হাতের আঙুল কাটা । সন্দেহজনকভাবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে । তবে কে বা কারা কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা জানতে আরো সময় লাগবে ।