৩ দশকেও উন্নয়ন নেই তাহিরপুরের ৩ শুল্ক স্টেশনে, বছরে শত কোটি রাজস্ব আদায়

Printed Edition

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনে তিন দশকেও উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ১৯৯৪ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে প্রতি বছর দেড়শ থেকে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হলেও পণ্য পরিবহনের জন্য এখনো নির্মিত হয়নি মানসম্মত সড়ক, নেই আধুনিক ওজন মাপার যন্ত্র।

মেঘালয় পাহাড় ঘেঁষা শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত এই তিন শুল্ক স্টেশনে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ও ৮ শতাধিক ব্যবসায়ী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ট্রাক বোঝাই কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহনে ঝুঁকি ও অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে। শ্রমিকদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার বা আবাসন সুবিধা, যা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।

ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, এলসির মাধ্যমে ভারতীয় ট্রাকে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি করে সরকার বিপুল রাজস্ব পায়। তবে বন্দরে ওজন মাপার যন্ত্র না থাকায় নির্ধারিত ১২ টনের স্থলে ১৮-১৯ টন পর্যন্ত পণ্য আনার অভিযোগ রয়েছে। এতে রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০১৪ সালে মেঘালয়ে পরিবেশগত একটি মামলার প্রেক্ষিতে কয়লা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হলে আমদানি কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লাগে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত বাণিজ্যে অস্থিরতার প্রভাবেও শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় পড়েন। আমদানি বন্ধ থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে এবং বহু শ্রমিক বিকল্প জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন।

তাহিরপুর আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সবুজ আলম বলেন, ‘রাজস্ব আদায় হলেও বন্দরের উন্নয়ন হয়নি। সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে ব্যবসায়ীদের নিজেদের উদ্যোগে মেরামত করতে হয়।’ সংগঠনের সভাপতি খসরুল আলমের দাবি, স্থায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন ও বন্দর সচল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

বাগলী শুল্ক স্টেশনের কাস্টমস সুপার আনোয়ার পারভেজ জানান, আধুনিক ওজন মাপার যন্ত্র স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত পণ্য প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর স্বার্থে বন্দরগুলো সচল রাখা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কাজ করবেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়ক উন্নয়ন, আধুনিক ওজন ব্যবস্থা স্থাপন এবং চোরাচালান প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া না হলে রাজস্ব আদায় ও সীমান্ত বাণিজ্য উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়বে।