শীত নামছে ধীরে ধীরে
তেঁতুলিয়াতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
শীত নামছে ধীরে ধীরে, একই সাথে বাড়ছে শুষ্কতা। দেশের কয়েকটি বড় শহর ছাড়া প্রায় সর্বত্রই বেশ শীত। তবে দিনের বেলা মেঘহীন আকাশে সূর্যকিরণ বেশ ভালো পাওয়া যায় বলে গরমও অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু ভোরে বা সন্ধ্যার পর দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি। সামনের বেশ কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। বৃষ্টি না হলে ধারাবাহিকভাবেই শীত পড়ে যেতে পারে। শীত যে নামছে তা দেশের কয়েকটি শীতলতম স্থানের দিকে তাকালেই অনুভব করা যায়। শীতের সাথে শুষ্কতা থাকায় বেশ অস্বস্তি অনুভূত হচ্ছে বলে বলছেন আবহাওয়াবিদরা।
বাংলাদেশে শীত আসার আরেকটি প্রভাবক হলো উপমহাদেশের উচ্চচাপ বলয়। এটি ইতোমধ্যেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলো পর্যন্ত বর্ধিত হলে বেশ শীত পড়বে। তবে কোনো কোনো পকেটে বেশ শীত পড়তে শুরু করেছে ইতোমধ্যেই। গতকাল পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়াতে ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি শীত মৌসুমে এটিই ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর কাছাকাছি নিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে, চুয়াডাঙ্গায়, যশোরে ও রাজারহাটে। উল্লিখিত এসব জায়গা দেশের শীতলতম স্থান। ওখানকার মানুষকেও কাঁপিয়ে ছাড়ছে ঠাণ্ডায়। শ্রীমঙ্গলে গতকাল নিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গায় ছিল ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যশোরে ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজারহাটের নিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে নিম্ন তাপমাত্রা এখনো বেশ উপরের দিকে। এই দু’টি শহর বেশ বড়। এখানে রয়েছে প্রচুর মানুষের বাস, রয়েছে একটির সাথে আরেকটির লাগানো বিল্ডিং এবং প্রচুর যানবাহন। মেঘহীন আকাশ থাকায় ভবনগুলোতে দিনের বেলা যে তাপ পড়ে, তা ঠাণ্ডা হতে হতে অনেক সময় লেগে যায়। আবার এসব শহরের যানবাহন থেকে গরম বাতাস বের হয়, তা জমা থাকে পরিবেশে। এগুলো ঠাণ্ডা হতে হতে অনেক সময় লাগে। তা ছাড়া চট্টগ্রাম শহর সমুদ্রের তীরে হওয়ায় সমুদ্রের এই শহরে শীত কখনোই খুব বেশিমাত্রায় নিচের দিকে নেমে যায় না। ফলে এই শহরের মানুষ শীত-গ্রীষ্ম সব সময় বেশি গরম বা বেশি শীতের কবলে পড়েন না। গতকাল শনিবারও একই অবস্থা ছিল। গতকাল চট্টগ্রাম শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ২৯.৩ ও ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ২৮ ও ১৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবার ঢাকা শহরে প্রায় তিন কোটির মতো মানুষ বাস করে। এই মানুষের জন্য এখানে রয়েছে প্রচুর যানবাহন এবং একটির সাথে আরেকটির লাগোয়া ছোট-বড় প্রায় ২১ লাখ ভবন। এসব ভবন দিনের বেলা যে তাপমাত্রা শোষণ করে সূর্য থেকে এবং যানবাহন থেকে তা ঠাণ্ডা অনেক সময় লেগে যায়। সে কারণে এই শহরে শীত সবার শেষেই পড়ে।
অন্য দিকে শীত আসার সাথে সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাতাসে থাকা আর্দ্রতাও কমে গেছে। এখন বাংলাদেশে যে দিক থেকে বায়ু আসছে সেটা শুষ্ক, তাতে কোনো জলীয় বাষ্প নেই। তাতে মানুষের মধ্যে বেড়েছে অস্বস্তি। ত্বক শুকিয়ে যাচ্ছে, শুষ্কতা কাটাতে ত্বকে তেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। ত্বকের এ অবস্থা পুরো শীতেই থাকবে। যার ত্বক যত বেশি শুষ্ক তাকে তেল অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করেই শীত কাটাতে হবে। অবশ্য কিছু মানুষের শীত-গ্রীষ্ম সবসময়ই তেল ব্যবহার করেই কাটাতে হয় বিশেষ ত্বকের কারণে।
তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা
নামল ১০. ৫ ডিগ্রিতে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গতকাল সকালে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা মৃদু শৈত্য প্রবাহ হিসেবে ধরে নেয়া যায় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে পঞ্চগড়সহ উত্তরের জনপদে বইতে শুরু করেছে উত্তরীয় হিম বাতাস কমতে শুরু করেছে সূর্যের তেজ। গত সাত দিন ধরে সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শুক্রবারও সেখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তবে এই কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে ঝলমলে রোদের দেখা মেলায় দিনের বেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকছে ২৬-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার কারণে আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে একটু বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহের রোববার (৩০ নভেম্বর) ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার (২৯ নভেম্বর) ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ১৩.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বুধবার (২৬ নভেম্বর) ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। যা সারা দেশের মধ্যেই সর্বনিম্ন। এই কয় দিন আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকায় সূর্যের প্রখরতা ছিল অনেকটাই কম। বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরেই তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে। চলতি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকার কারণে সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে কমে আসায় দিনের বেলায়ও হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পরপরই গ্রামের হাটবাজার ফাঁকা হয়ে পড়ছে, মানুষ হচ্ছে ঘরমুখী। এদিকে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু এবং বয়স্করা হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পঞ্চগড়ে প্রায় ৮ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরো ৬৫ হাজার অসহায় শীতার্ত মানুষের জন্যে শীতবস্ত্র চেয়ে মন্ত্রণালয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক কাজী মো: সায়েমুজ্জামান।