আন্দোলনের মুখে রাবির আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগ

Printed Edition
3rd-3
রাবিতে ডিনস কমপ্লেক্সের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন : নয়া দিগন্ত

রাবি প্রতিনিধি

দিনব্যাপী আন্দোলন, চেম্বারে তালা ও রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী ছয় ডিন পদত্যাগ করেছেন। গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছয়জন আওয়ামীপন্থী ডিন স্বপদে বহাল থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাদের অপসারণের দাবিতে গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ডিনস কমপ্লেক্সে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিনদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় ডিনস কমপ্লেক্সের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ চলাকালে রাকসুর সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলেন, আমরা চাই না আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক। নৈতিকতার খাতিরে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আমরা কিছু বলিনি। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা ডিন পদে বহাল আছেন, তারা এ পদে থাকার যোগ্যতা রাখেন না। এটি জুলাই বিপ্লবের সাথে গাদ্দারি এবং জুলাইয়ের রক্তের সাথে বেইমানি।

তালা ঝুলিয়ে রাবি সিনেট সদস্য আকিল বিন তালেব বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আমরা কার্যকর উদ্যোগ দেখিনি। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সঙ্কটসহ নানা বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শক্তি হাদি ভাইকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে দেখছি, এসব ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়িত এবং তাদের ভারতের ভেতরে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিরা বহাল রয়েছেন, এমনকি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও। সিনেট কার্যকর না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এখনো সিন্ডিকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, আর সেই সিন্ডিকেটের সদস্যরাই বর্তমানে ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছয়জন ডিন আওয়ামীপন্থী হয়ে নিজ নিজ পদে থেকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বিচার না হওয়ার পেছনে এ ডিনদের ভূমিকা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর এসব ডিনের মেয়াদ শেষ হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার জানান, সামনে ভর্তি পরীক্ষা থাকায় ডিন নির্বাচন দেয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এক বছর যেহেতু রাখা হয়েছে, আরো কিছুদিন রাখলেও সমস্যা হবে না। রেজিস্ট্রারের এ বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ডিনদের পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ডিনদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।