অসহযোগ আন্দোলনে বিচারপতিরা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

৭ মার্চের আগের চার-পাঁচ দিনের ঘটনাবলিতে বিক্ষুব্ধ মানুষ এ দিন স্বাধীনতা ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল। সকাল থেকেই চারদিক থেকে মানুষের ঢল নামে রেসকোর্স ময়দানে। লাখো মানুষের পদভারে ঢাকা পরিণত হয় উদ্বেলিত এক নগরে। অলিগলি হতে সকাল থেকে দলে দলে মুক্তিকামী মানুষ রাজপথ কাঁপিয়ে রেসকোর্স ময়দানের দিকে ছুটতে লাগল। ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা-তোমার আমার ঠিকানা’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ- বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো- বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ প্রভৃতি সেøাগানে রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে। স্বাধীন বাংলাদেশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা মুক্তিকামী মানুষের সেøাগানে সেøাগানে প্রকম্পিত হয় রেসকোর্স ময়দান।

ঐতিহাসিক সমাবেশের ঠিক আগেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হবে কি- হবে না এ নিয়ে তখনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক এবং বিতর্ক চলছে নেতৃবৃন্দের মধ্যে। সে দিন নেতৃবৃন্দের মধ্যে নানা মতদ্বৈধতার কারণে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে আন্দোলনের জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

৭ মার্চের ঘোষণা অনুযায়ী হরতাল অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন বিচারপতিরাও। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে জেনারেল টিক্কা খানকে শপথ পাঠ করাতে অস্বীকার করলেন ঢাকা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী।

এ দিকে বর্ষীয়ান জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পল্টনের বিশাল এক সমাবেশে ভাষণ দেন। পল্টনের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বয়োবৃদ্ধ এই নেতা বলেন, ১৩ বছর আগে কাগমারী সম্মেলনে আমি আসসালামু আলাইকুমের কথা বলেছিলাম তাদের। তাই বলছিলাম যে, তোমরা (পশ্চিম পাকিস্তানি) তোমাদের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করো আর আমরা আমাদের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করি। মওলানা ভাসানী আরো বলেন, পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হবেই। সাড়ে ৭ কোটি মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

ওই জনসভায় আতাউর রহমান খানও বক্তৃতা দেন। তিনি কালবিলম্ব না করে জাতীয় সরকার ঘোষণার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান জানান।