তিন হাজার বছর আগের মধু
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
তিন হাজারের বছরের পুরনো মধু। সেটি এখনো খাওয়ার উপযোগী! মিসরের এক প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র থেকে পাওয়া গেছে এই পানীয়। আশ্চর্যের বিষয়, সেই মধু এখনো খাওয়ার উপযুক্ত। একদমই নষ্ট হয়নি।
উনিশ শতকের শেষ ভাগ এবং বিশ শতকের গোড়ার দিকে প্রতœতাত্ত্বিকরা মিসরজুড়ে তন্ন তন্ন করে রাজকীয় সমাধি খুঁজতে শুরু করেন। থিবসের একাধিক সমাধিতে রাখা সমাধিসামগ্রীর ঠিক পাশেই মধুভর্তি মুখবন্ধ পাত্র উদ্ধার করেন প্রতœতাত্ত্বিকেরা। প্রাচীন মিসরীয় রাজপরিবারের সদস্যদের প্রায়ই এমন সব জিনিসপত্রসহ সমাধিস্থ করা হতো। প্রাচীন মিসরীয়রা মনে করতেন মৃত্যুর পরে এই সমস্ত পার্থিব জিনিসের প্রয়োজন পড়বে প্রিয়জনদের। এর মধ্যে ছিল গয়না, পোশাক, খেলার সামগ্রী ও খাবার। সেই খাবারের মধ্যে অন্যতম ছিল মধু। কারণ বেশির ভাগ খাবারের মতো এটি সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেত না।
হাজার হাজার বছর পার করেও মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়ার কারণ হলো মধুর রাসায়নিক গঠন। জলীয় অংশ প্রায় নেই বললেই চলে, কিন্তু চিনিতে ভরপুর। মধু প্রাকৃতিক ভাবেই অম্লীয়। কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক এতে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। কম আর্দ্রতা, চিনির পরিমাণ অত্যধিক এবং প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক এই তিনটি গুণের কারণে মধু দীর্ঘ কাল সংরক্ষণ করা যায়।