এবার উইকেট নিয়ে ইতিবাচক হেসন
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শেষবার গত বছরের জুলাইয়ে যখন পাকিস্তান দল বাংলাদেশ সফরে এসেছিল, তখন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন ও টি-২০ অধিনায়ক সালমান আলী আগা। সরাসরি বাজে উইকেট আখ্যা দিয়েছিলেন হেসন। তবে এবার মিরপুরের উইকেট নিয়ে বেশ ইতিবাচক এই কিউই কোচ। সদ্য সমাপ্ত বিপিএলের উইকেটগুলোর দিকেও নজর ছিল তার। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে উইকেট প্রসঙ্গে হেসন বলেন, ‘অবশ্যই আগের চেয়ে অনেক ভালো পিচ এবং ঘাসও ভালো দেখাচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত এখানকার পিচ বেশ কিছু দিন ধরে খুব একটা ভালো ছিল না। তবে আমরা বিপিএলেও দেখেছি যে এখানকার পিচগুলো অনেক স্পোর্টিং ছিল। মনে হচ্ছে অনেক বেশি ঘাস আছে এবং ব্যাট ও বলের মধ্যে সত্যিকারের লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দুই দলই ভালো ক্রিকেট উইকেটে খেলতে চায় এবং চ্যালেঞ্জ নিতে চায়।’
টি-২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে দলে ব্যাপক রদবদল এনেছে পাকিস্তান। বাবর আজম ও শাদাব খানের মতো তারকাদের বাদ দিয়ে একেবারে ছয়জন নতুন মুখ নিয়ে ঢাকায় পা রেখেছে তারা। তারুণ্যনির্ভর এই দল নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন। তার বিশ্বাস, স্বাগতিক বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করার সামর্থ্য রয়েছে পাকিস্তানের। যদিও ঘরের মাঠের কন্ডিশনে স্বাগতিকদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখাচ্ছেন এবং সমীহও করছেন তিনি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে বাবর আজম-সাইম আইয়ুব-ফখর জামানদের নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আসন্ন এই সিরিজে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন আবদুল সামাদ, মাআজ সাদাকাত, মুহাম্মদ গাজি ঘোরি, সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান ও শামিল হুসাইন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আনকোরা হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তারা বেশ পরিণত। এই তরুণদের নিয়ে আশাবাদী হেসন, ‘এটি দারুণ রোমাঞ্চকর একটি দল। আমাদের এখানে কিছু নতুন মুখ আছে, যারা ‘শাহিনস’-এর হয়ে ভালো করেছে এবং জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। একটি দল হিসেবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেও আছে টাইগাররা। সেদিক থেকে বাংলাদেশকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও নিজেদের সামর্থ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন হেসন। ‘অবশ্যই বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে চাই। তবে বাংলাদেশের কন্ডিশনে তাদের বিশেষ সম্মান করি। আবারো বলছি, এখানকার কন্ডিশন টি-২০ সিরিজের তুলনায় অনেক ভিন্ন হবে। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেশি ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলছে, তাই আমাদের এই ফরম্যাটের সঙ্গে খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।’
নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে হেসন বলেন, ‘আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এখানকার পিচের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেয়া। আমাদের সামনে যাই আসুক না কেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে বাংলাদেশের নিজেদের কন্ডিশনে তাদের চ্যালেঞ্জ করার মতো একটি দল আমাদের আছে এবং তাদের নিজেদের আত্মবিশ^াসে অটল থাকতে হবে।’