আত্রাইয়ের শুঁটকি যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়
Printed Edition
রুহুল আমিন আত্রাই (নওগাঁ)
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শুঁটকি বাজারজাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। শুঁটকি তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে ব্যবসায়ীদের। গতবার এলাকা জুড়ে বন্যার পানিতে মাঠ-ঘাট, নদী-নালা ডুবে যাওয়ায় মাছের বিচরণ অনেক বেশি। তাই জলাশয়গুলোতে ধরা পড়ছে দেশীয় প্রজাতির রকমারি মাছ। আর এসব মাছ প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে বিক্রি হয় আত্রাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন মাছের আড়তে। এখানকার মাছ কিনে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা।
উত্তর জনপদের মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত স্থানসমূহের মধ্যে আত্রাইও একটি বিখ্যাত স্থান। প্রতিদিন শত শত টন মাছ আত্রাই থেকে রেল, সড়ক ও নৌ পথে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়। সে অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদনেও আত্রাইয়ের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজাপুরসহ দেশের ১৫-২০ জেলাতে বাজারজাত করা হয় আত্রাইয়ের শুঁটকি মাছ। আর এ শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন শতাধিক পরিবার।
উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরিতে বিশেষভাবে খ্যাত। এ গ্রামের শতাধিক শুঁটকি ব্যবসায়ী এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত। শুধু মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে তারা পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ নিশ্চিত করেন। গতবারের বন্যার কারণে নদী ও খাল বিলে কাঁচা মাছের আমদানি অনেক বেশি। অন্যান্যবার বাজারে মাছ কম কিন্তু মূল্য বেশি হওয়ায় শুঁটকির বাজারে ধস নেমে ছিল। ফলে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এবারে আর তাদের গুনতে হচ্ছে না লোকসান। মাছের ব্যাপক আমদানি, মূল্য কম এবং শুঁটকির বাজার মূল্য বেশি থাকায় তাদের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠছে।
ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোল্লা বলেন, শুঁটকি ব্যবসার সাথে আমি দীর্ঘদিন থেকে সম্পৃক্ত। শুঁটকি তৈরিতে খরচের সাথে সাথে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় হয়। সর্বোপরি রৌদ্র বৃষ্টি ও মাছের দুর্গন্ধ সব কিছুকে উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে এ পেশা চালিয়ে আসছি। পুঁটি, খোলসানী, চাঁন্দা, রাইখর, সাটিসহ বিভিন্ন জাতের দেশী মাছের শুঁটকি আমরা তৈরি করি। অপর শুঁটকি ব্যবসায়ী মোজাহার আলী মোল্লা বলেন, পুঁটি ও সাটি মাছের শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পুঁটি মাছের শুঁটকি ছয় হাজার এবং সাটি মাছের শুঁটকি আট হাজার টাকা মণ মোকামে বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদেও বেশ লাভবান হচ্ছি। আমাদেরকে বিভিন্ন সময় সরকারিভাবে শুঁটকি তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী শুঁটকি তৈরি করি বিধায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্রাইয়ের শুঁটকির চাহিদা আছে। সরকারিভাবে এ ব্যবসায় অর্থ সহযোগিতা দিলে আরো অনেকেই এ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।