‘শান্তি আর দূরে নয়’ পুতিনের সাথে বৈঠক শেষে এরদোগান

Printed Edition
onno-1
তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুতিন ও এরদোগান :ইন্টারনেট

রয়টার্স

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রক্রিয়া শিগগিরই এগিয়ে আসতে পারে। শুক্রবার তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দেশে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘শান্তি আর দূরে নয়, আমরা তা দেখতে পাচ্ছি।’

এরদোগান জানান, বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সমাধান নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। তুরস্ক ফের শান্তি প্রচেষ্টায় সহায়তা করার প্রস্তুতি ব্যক্ত করেছে। তিনি আরো বলেন, পুতিনের সাথে আলোচনার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথেও শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে চান।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বৈঠকে প্রস্তাব দেন, অন্তত জ্বালানি স্থাপনা ও বন্দর এলাকায় সীমিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা যেতে পারে। এরদোগানের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মানবিক সঙ্কট কমাতে সহায়ক হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। এরদোয়ান সতর্ক করে বলেন, কৃষ্ণসাগরকে কখনোই সংঘাতের ক্ষেত্র বানানো উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এ অঞ্চলে নিরাপদ নৌযাত্রা সবার জন্য জরুরি এবং সংঘাত বাড়লে তা রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এরদোগানের এই বক্তব্য তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরো জোরালো করছে। ন্যাটো সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আঙ্কারা রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং একই সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে আলোচনায় সক্রিয় রয়েছে। এরদোগানের ‘শান্তি আর দূরে নয়’ মন্তব্যকে অনেকেই কূটনৈতিক আশাবাদ হিসেবে দেখছেন, যদিও বাস্তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।

এরদোগানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।