উলিপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে ২ সহোদরের দড়ির কারখানা
গ্রামের মাটিতে শিল্পের ছোঁয়া
Printed Edition
মো: মুরাদ হোসেন মণ্ডল উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের রাজবল্লভ গ্রামে নিজ বাড়িতে দড়ি তৈরির কারখানা গড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই সহোদর নজির হোসেন ও নুর আলম। ‘নজির হোসেন দড়ি ঘর’ নামে গড়ে ওঠা এই কারখানাটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ পরিবেশে শিল্প উদ্যোগের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। কারখানাটি দেখতে আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও ইতোমধ্যে এটি পরিদর্শন করেছেন।
উদ্যোক্তা নজির হোসেন (৩৬) জানান, সংসারের অভাব ঘোচাতে ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর তিনি ঢাকায় গিয়ে মুন্সীগঞ্জের মুক্তাপুর এলাকার একটি দড়ির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পাঁচ বছর পর ছোট ভাই নুর আলমকেও (২৯) সেখানে যুক্ত করেন।
দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর চাকরি করেও কাক্সিক্ষত উন্নতি না হওয়ায় ২০০৯ সালে তারা গ্রামে ফিরে আসেন। পরে বাবার সহায়তায় জমি বন্ধক, সঞ্চয় ও এনজিও ঋণ মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২০২৪ সালে নিজ বাড়িতে দড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করেন।
বর্তমানে আধাপাকা টিনশেড ঘরে ১৫টি মেশিনে নিয়মিত উৎপাদন চলছে। ঢাকার মুন্সীগঞ্জ থেকে আনা সুতায় বিভিন্ন রঙের পাতলা ও মাঝারি দড়ি তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন দুই নারী শ্রমিকসহ মোট চারজন এখানে কাজ করছেন। কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক রওশন আরা জানান, গ্রামে বসেই কাজের সুযোগ পেয়ে তিনি উপকৃত হচ্ছেন। দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরি পান তিনি। অপর শ্রমিক জোসনা বেগম বলেন, কারখানাটি বড় হলে আরো অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
উদ্যোক্তাদের বাবা নুর মুহাম্মদ বলেন, সীমিত আয়ের কারণে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সহায়তা পেলে এলাকার গরিব ও বেকার মানুষের জন্য বড় কর্মসংস্থান তৈরি করা যেত।
নজির হোসেন জানান, প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ কেজি দড়ি উৎপাদন হলেও আয়ের বড় অংশ শ্রমিকের বেতন ও কাঁচামাল কিনতেই খরচ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সমস্যা ও মূলধনের অভাবে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। তাদের তৈরি দড়ি গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশু বাঁধা, ভ্যান, ট্রলি ও ট্রাকে মালামাল বাঁধার কাজে বেশ জনপ্রিয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোলেমান মিয়া বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি বৃহৎ শিল্পে রূপ নিতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, উদ্যোক্তারা যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হবে। কুড়িগ্রাম বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, যোগাযোগ করা হলে কারখানা পরিদর্শন করে সহযোগিতার ব্যবস্থা নেয়া হবে।