চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

৩৬০০ টাকা মূলধনে স্বপ্নযাত্রা ৫৩ বছরে চিকিৎসা পেয়েছে ৭০ লাখ মানুষ

Printed Edition

আরফাত বিপ্লব চট্টগ্রাম ব্যুরো

ছায়ঘেরা সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫৩ বছরে প্রায় ৭০ লাখ চক্ষু রোগীকে সেবা দিতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এক সময় ছোট পরিসরে হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হলেও কালের পরিক্রমায় এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে পরিচিতি লাভ করেছে বিদেশেও।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১২ শতাধিক রোগী এ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। হাসপাতালের দুই লাখ বর্গফুট ফ্লোরের তিনটি ব্লকে রয়েছে ১০০টি সাধারণ শয্যা, ৩১টি বিভিন্ন ধরনের কেবিন এবং আটটি বিশ্বমানের অপারেশন থিয়েটার। বছরে অস্ত্রোপচার করে আসছে প্রায় ২৭ হাজার রোগীর। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: রবিউল হোসেনের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি।

সম্প্রতি কিছুু স্বার্থন্বেষী মহল অপ্রপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আক্রমণ চালিয়ে দরিদ্র চিকিৎসাপ্রার্থীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে একটি মহলের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ২০২৪ সালের একদিন বিকেলে ৩০-৪০ জনের একটি দল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ক্যাম্পাসের ভেতরে বিএনএসবি, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক ও ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায়।

জানা গেছে, হাসপাতালটি চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও উদ্দেশ্য ছিল গরিবদের চক্ষু চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব নিবারণ ও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া। অধ্যাপক ডা: রবিউল হোসেন আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কয়েকজন সমাজকর্মীর উদ্যোগে মাত্র তিন হাজার ৬০০ টাকা মূলধনে জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির নামে প্রথমে চিকিৎসাসেবা শুরু করেন। পরবর্তীতে ৪০ শয্যায় রূপান্তরিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ‘ইংল্যান্ডের রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর দি ব্লাইন্ড’-এর তৎকালীন পরিচালক স্যার জন উইলসন। অধ্যাপক ডা: রবিউল হোসেনের চোখে থাকা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে আরো কয়েকজন। এদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জহুর আহম্মদ চৌধুরী, এ কে খান, অধ্যাপক এম এ আমিন, ডা: ছমিউদ্দীন, ডা: এস আর দাশ প্রমুখ। শুরুতে শিল্পপতি এ কে খান ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি।

১৯৮৩ সালের ১০ফেব্রুয়ারি হাসপাতালটি উদ্বোধন হয়। এর আগে ১৯৭৯ সালের ১৯ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় ভূমির ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সিইআইটিসির প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: রবিউল হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘মানসম্পন্ন চক্ষুসেবা দিতে চক্ষু চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ উন্নয়ন ও একটি উৎকৃষ্ট মানের চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলাই ছিল আমার স্বপ্ন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটির পেছনে এই দেশের জনগণ, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশী-বিদেশী কিছু দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তা এটিকে সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করে। এই কার্যক্রম প্রথমে ছানি রোগীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আজ এটি চক্ষু রোগের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সমান দক্ষতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।