চট্টগ্রাম বন্দরে দিনে দুই-আড়াই কোটি চাঁদাবাজি হয় : উপদেষ্টা সাখাওয়াত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটি জায়গায় চাঁদাবাজি হয় এবং সেখানে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা অবৈধভাবে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

গতকাল সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশী কোম্পানির সাথে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনের রায় বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমার মনে হয় যারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন তারা নতুন বেঞ্চে যাবেন অথবা প্রধান বিচারপতির শরণাপন্ন হবেন।

তিনি বলেন, আমি রায়ের বিরুদ্ধে যাচ্ছি না, রায়ের কিছু বলছিও না। দুনিয়ার যেসব বন্দরে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে এখানেই। পায়রা বন্দরে সরকার প্রতিবছর ২২ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। তবে এখন সেখান থেকে লাভ পাওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, আমি আশ্চর্য হই যখন আপনারা এসব পত্রিকায় দেন, কিন্তু একবারও জিজ্ঞেস করেন না চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন কত অবৈধ টাকা ওঠে। আমি একটি আনুমানিক হিসাব দিতে পারি, কিন্তু দিলে হয়তো তা নিয়ে বিতর্ক হবে। ন্যূনতম কত টাকা ওঠে? বন্দরের প্রত্যেকটি জায়গায় চাঁদাবাজি চলছে। ভেতরে ট্রাক দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকে, যা জায়গা হওয়ার কথা নয়। কেউ না কেউ চাঁদা নিচ্ছে। ভেতর থেকে বের করে দেয়া হলে বাইরে গিয়েও চাঁদা নেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বিদেশী কোম্পানির সাথে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভক্ত রায় দিয়েছেন। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ রায় হয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেন। আর বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন খারিজ করে দেন।