চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি ছুঁতে পারবে কি সামিনরা
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ভারতের তামিলনাডুর চেন্নাইয়ে চলমান জুনিয়র বিশ্বকাপ হকিতে নতুন এক ট্রফির ঘোষণা দিয়েছে হকির সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এফআইএইচ। নাম দিয়েছে চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি। ২৪ দলের মধ্যে গ্রুপ পর্বে শীর্ষ দু’টি করে দলের সাথে নেয়া হয়েছে শীর্ষ চার রানার্স আপ। মোট ১৬ দল নিয়ে হয়েছে কোয়ালিফায়ার পর্ব। পুল পর্বে বাকি আট দলের মধ্যে চ্যাম্পিয়নকে দেয়া হবে চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পুল পর্বে ওমানকে ১৩-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে সেরা ১৯ এ অবস্থান করছে। আজ বিকেল ৫টায় মাদুরাই স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচ রয়েছে অস্ট্রিয়ার সাথে। এই ম্যাচ জিততে পারলেই পুল পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৭তম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পাবে চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি।
গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সাথে হেরেছে অস্ট্রিয়া। ২৯ গোল হজম করে একটি গোল দিতে পেরেছে। পুল পর্বে জিতেছে নামিবিয়া ও চীনের সাথে। মেনস ইউরো হকি অনূর্ধ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে। ২০১৬ ওয়ার্ল্ড কাপে তারা ১২তম হয়েছিল। আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড কাপে সুযোগ পেয়েছে মেনস জুনিয়র এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে।
যেকোনো পর্যায়েই প্রথমবারের মতো হকি বিশ্বকাপে খেলছে বাংলাদেশ। আমিরুলময় এক নক্ষত্রের উত্থান লাল-সবুজের শিবিরে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটি হ্যাটট্রিক করেছেন। ১৫ গোল করে রয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতাদের শীর্ষে। আজ ১৭তম স্থান নির্ধারণী খেলায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টার্ফে নামবে সেইগফ্রেড আইকম্যানের দল। ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রশংসা পাচ্ছে বাংলাদেশ যুব হকি দলের খেলোয়াড়েরা। এবার ট্রফিটি বাংলাদেশের সুকেশে রাখতে পারলে সেটি হবে বাড়তি পাওয়া।
চীনের বিপক্ষে শুটআউটে জেতা অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে চ্যালেঞ্জার্স কাপ ছুঁতে ব্যাকুল মেহরব হাসান সামিন বাহিনী। তার কথা, শুরু থেকে আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করেছি। পরে কি হবে সেটি আগে চিন্তা করিনি। কোচ আমাদের নির্দিষ্ট ম্যাচ নিয়েই ভাবতে বলেছেন। সেভাবে খেলেই আমরা এতদূর এসেছি। সামনে একটি মাত্র ম্যাচ আছে। এই ম্যাচে জিতেই ফিরতে চাই। আমরা তো নকআউট পর্বে খেলতে চেয়েছিলাম। নিজেদের উপর বিশ্বাস ছিল। দলীয় সমন্বয় ছিল, কার কি ভূমিকা সেটিও সবাই জানত। কাউকে নতুন করে কিছু বলতে হয়নি। শেষবার আর একটি ম্যাচ সেভাবে খেলতে চাই। যেকোনো ট্রফি ছোঁয়া আনন্দের, আর সেটি যদি হয় বিশ্বকাপে, তাহলে তো কথাই নেই।’
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন হকির হামজা খ্যাত আমিরুল ইসলাম। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি করেছেন ১৫ গোল। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ খুশি হকির এই উঠতি তারকা। শেষ ম্যাচে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। জানালেন, ‘দোয়ার সাথে আমাদের পারফরম্যান্স করাও জরুরি। স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলে হবে না।’ গ্রুপ পর্বে কোরিয়াকে হালকাভাবে নেয়ায় খেসারত দিতে হয়েছে। দুই কোয়ার্টারে তিন গোলে পিছিয়ে থেকে পরে সমতা। আমিরুল জানালেন, ‘ওভার কনফিডেন্সে এমনটা হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে আমরা আরো বেশি সর্তক। তীরে এসে তরী ডুবানোর ইচ্ছে কারো নেই। লক্ষ্য ছিল অন্তত সেরা ১৬তে থাকা- সেটি হয়নি। ১৭তম হয়ে চ্যালেঞ্জার্স ট্রফিতে চুম্বন দিতে চাই।’