পাবনার দুই আসনের নির্বাচন নিয়ে তালগোল পাকিয়েছে ইসি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন নিয়ে তালগোল পাকিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি গণমাধ্যমগুলোতে এই দুই আসনে নির্বাচন আপতত স্থগিত করা হচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই খবরের প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার তথ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতের খবর সঠিক নয় বলে গণমাধ্যমগুলোকে জানিয়ে প্রচারিত সংবাদটি বন্ধ রাখার অনুরোধ করে ইসি। এর মাত্র একদিন পর গতকাল শনিবার তারা নির্বাচন স্থগিতের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এ ঘটনায় ইসির নির্বাচনের সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বারবার সিদ্ধান্ত বদল করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে আইনি লড়াই ও প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও একেক সময়ে একেক সিদ্ধান্ত দিয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনঅফিশিয়াল সিদ্ধান্ত দিয়ে সেটি আবার পরিবর্তন করার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতিতে।
সীমানা নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলের কারণে আইনি জটিলতায় পড়ে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ দু’টি আসনের সীমানা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেও তা প্রত্যাহার করে নেয় কমিশন। এ ছাড়া ইসির আনঅফিশিয়াল সিদ্ধান্তে এমপিওভুক্ত কয়েকজন শিক্ষকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ওই সব শিক্ষক আপিল করলে তাদের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ইতোমধ্যে এ নির্দেশনার কারণে কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
জানা যায়, এর আগেও বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত বদল করেছে কমিশন। ইসির একাধিক পরিপত্র ও চিঠিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভোটগ্রহণে নিয়োগ দেয়া হবে না ঘোষণা দেয়ার পর সেই সিদ্ধান্তও বদল করেছে। এভাবে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় সমস্যায় পড়েছেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
রিটার্নিং অফিসাররা বলছেন, একেক সময়ে একেক ধরনের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত আসায় তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সেটিতেও পরিবর্তন আনে ইসি, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোয় কখনোই হয়নি। ওই তফসিলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাত দিন সময় দেয়া হয়। যদিও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় ওই সময় পাঁচ দিন উল্লেখ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুসরণ করেনি ইসি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের ভুল আছে। কিছু ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করতে গিয়ে সংশোধনী দিতে হয়েছে। তফসিল ঘোষণার প্রজ্ঞাপনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিলের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি ভুল ছিল। পরবর্তী সময়ে আমরা সংশোধন করেছি। আবার মহান বিজয় দিবস, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের মতো কিছু বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আপিল বিভাগের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই দু’টি আসনে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল আবেদন করলেও হঠাৎ তা প্রত্যাহার করে নেয় এবং হাইকোর্টের রায়ের আলোকে ২৪ ডিসেম্বর পাবনা-১ ও ২ এবং ফরিদপুর-২ আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে সাঁথিয়া উপজেলার পাশাপাশি বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠন করা হয়। একইভাবে পাবনা-২ আসনে সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলার ওই পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন বাদ দেয়া হয়।
ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। এই স্থগিতাদেশ থাকবে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত বলে রায় দেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশন ওই দু’টি আসনের সীমানায় যে পরিবর্তন এনেছিল, তা বহাল হয়। ওই রায়ের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর পরিপ্রেক্ষিতে এ দু’টি আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।