২২ বছরে নিহত ১১৮ জন আহত প্রায় আড়াই হাজার
নির্বাচনী সহিংসতা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্র্বাচনে এবারই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা নির্র্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনীর কঠোর তৎপরতায় অন্যান্য নির্র্বাচনের তুলনায় এবার সহিংসতা ও খুনোখুনি কম হয়েছে। অতীতের নির্র্বাচনে বিশেষ করে ২০০১ সাল পরবর্তী অর্থাৎ ২২ বছরে নির্র্বাচনে ব্যাপক সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১১৮ জন। ত্রয়োদশ নির্বাচনকে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন বলা হলেও তফসিলের পর থেকে কিছুটা সঙ্ঘাত-সহিংসতার ঘটনাও কম নয়। তবে অতীতের তুলনায় এই নির্বাচনে সহিংসতা কিছুটা কম হয়েছে। তবুও নির্বাচন ও ভোটের দিন ঘিরে উদ্বেগ রয়েছে।
একসময়ে নির্বাচন মানে আনন্দ-খুশির মেলা থাকলেও, এখন নির্বাচন রূপ নিয়েছে সহিংসতা ও সংঘর্ষে। নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে অতীতে শত শত সহিংসতা ঘটেছে। এমন চিত্র এবারো দেখা গেছে। সরকারি হিসাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিলের পর থেকে ২৭৮টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়েছে পাঁচজন। তবে আইন ও সালিস কেন্দ্রের তথ্য মতে, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৪১টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আহত হয়েছে এক হাজার ২০৬ জন। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের দিন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাধারণ ভোটার ও বিশ্লেষকরা।
পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২১ দিনে (২১ ডিসেম্বর ২০২৩-১০ জানুয়ারি ২০২৪) ৫৩৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হন ৪৬০ জন, নিহত ছয়জন। তখন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে ১০২টি, অগ্নিসংযোগ ১১৮টি এবং ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলির ঘটনা ৩০টি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২২ দিনে (১০ ডিসেম্বর ২০১৮-২ জানুয়ারি ২০১৯) ৪১৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হন ৭৮০ জন, নিহত ২২ জন। তখন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে ২৩৪টি, অগ্নিসংযোগ ১৫৫টি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলি ১৪৩টি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৪ দিনে (২২ ডিসেম্বর ২০১৩-৪ জানুয়ারি ২০১৪) ৫৩০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৩১৫ জন আহত এবং ১১৫ জন নিহত হন। তবে তখনকার ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের কোনো তথ্য দিতে পারেনি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এ ছাড়াও ২০০৮ সালের নবম নির্বাচনে সহিংসতায় মারা যান সাতজন, আহত হন চারজন। ২০০১ সালের অষ্টম নির্বাচনে সহিংসতায় মারা যান ২৫ জন, আহত হন ৩৭৩ জন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলোর মতোই এবারো প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সঙ্ঘাত-সহিংসতা ঘটেছে। বাংলাদেশের নির্বাচন বরাবরই এমন। কারণ নির্বাচনের প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক ও ভোটাররা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও কাজে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। সেজন্য ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে। আবার সঙ্ঘাত-সহিংসতার জন্য অনুকূল পরিস্থিতিও আছে। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখার অতীত কৌশল এবারো লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে এবারো ভোটের দিন সঙ্ঘাত-সহিংসতার যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে।