সব আসনে জয়ী বিএনপি
নতুন সরকারের কাছে বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা অনেক
Printed Edition
আবুল কালাম আজাদ বগুড়া অফিস
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার বগুড়াবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নিকট অনেক প্রত্যাশা। তারা বগুড়ায় উন্নয়নের প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছেন।
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিপুল ভোটের ব্যবধানে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি বগুড়া সদর আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার কারণে বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে এ উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বিগত ১৯৯১ সালে বগুড়া-২ আসন (বিজয়ী জামায়াতে ইসলামী) ছাড়া ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলার সব আসনে জয়লাভ করে বিএনপি। মাঝখানে আওয়ামী আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনে ভালো করতে পারেনি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পূর্বের ধারাবাহিকতায় জেলার সাতটি আসনেই ধানের শীষ জয়লাভ করে। তবে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা প্রতিটি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দিতা গড়ে তোলে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বর্তমান প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ, শহরের প্রধান সড়ক দুই লেনে উন্নীতকরণ , শহীদ জিয়াউর মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ বেডের হাসপাতাল ভবন নির্মাণ, নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা, যমুনা নদীর ভাঙন রোধে প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বগুড়ার বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এ উন্নয়ন দেখে পালিয়ে যাওয়া হাসিনা বিগত ১৭ বছর বগুড়ার কোনো উন্নয়ন কাজ করেনি।
সদ্য সমাপ্ত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করায় এবং বগুড়ার সন্তান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা আরো বেড়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন , বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ , বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, প্রকৌশল কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন , শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ৫০০ বেড থেকে এক হাজার বেডে উন্নীতকরণ, মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, পূর্নাঙ্গ বিমান বন্দর , বগুড়া বিভাগ , যমুনার ভাঙনের হাত থেকে ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষা , সারিয়াকান্দি নদী বন্দর স্থাপন, ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা , দ্বিতীয় বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠা , চান্দু স্টেডিয়ামে আইসিসি ম্যাচ আয়োজন ব্যবস্থা করা ।
বগুড়ার সচেতন নাগরিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মো: জুবায়ের হাসান বলেন, বর্তমান সরকারের নিকট বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা অনেক। বিগত ১৭ বছর বগুড়ায় উন্নয়ন কাজ হয়নি। আমরা আশা করি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। সেই সাথে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত সরবরাহসহ সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে বলে বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা।