ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষা করে সিরিয়ায় ফের ইসরাইলি হামলা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংযমের আহ্বান সত্ত্বেও দক্ষিণ সিরিয়ায় নতুন করে সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার এ হামলায় একটি পরিত্যক্ত সামরিক ঘাঁটি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল আখবারিয়া’র খবরে বলা হয়, দু’টি ইসরাইলি ট্যাংক ও ১০টি সামরিক যান দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কুনিত্রার সামদানিয়া আল-শারকিয়া গ্রামে প্রবেশ করে। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বা সিরীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন সোমবারও কুনিত্রার দু’টি সিরীয় গ্রামে ইসরাইলি বাহিনী হামলা করে। গত কয়েক মাস ধরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল।

এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অঞ্চলে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়,

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ না করতে ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। একই সাথে তিনি বলেছেন, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের অধীনে চলমান পরিবর্তনে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় শত শত হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, আর তাই ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ সিরিয়ার রাজনৈতিক রূপান্তরে এখন নিজেই সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সিরিয়ার সাথে দৃঢ় ও আন্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখা ইসরাইলের জন্য জরুরি। এবং সিরিয়ার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে- এমন কোনো কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে। আমরা চাই সিরিয়া একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হোক।

ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল শারার প্রশংসা করে বলেন, তিনি দুই দেশের জন্যই ‘ভালো কিছু ঘটানোর’ জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য এটি এক ঐতিহাসিক সুযোগ।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সিরিয়ার ভেতরে ইসরাইলের বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সিরিয়া বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে ইসরাইল অন্তত এক হাজার বিমান হামলা, সীমান্ত অতিক্রম করে চার শতাধিক অভিযান চালিয়েছে এবং গোলান মালভূমির নিরস্ত্রীকৃত বাফার জোনও দখল করে নিয়েছে, যা ১৯৭৪ সালের সমঝোতার লঙ্ঘন। প্রেসিডেন্ট আল-শারা স্থায়ী শান্তির জন্য ৮ ডিসেম্বরের আগের সীমান্তে ফিরে যাওয়ার দাবিও জানিয়ে আসছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম ও সঙ্কল্পের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় যে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তাতে সন্তুষ্ট।’ তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি বাস্তব ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সিরিয়ার সরকারকে সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সিরিয়ার ওপর থেকে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী তালিকা থেকেও একাধিক জ্যেষ্ঠ সিরীয় কর্মকর্তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তবে সিজার সিরিয়া সিভিলিয়ান প্রোটেকশন অ্যাক্টসহ অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন, যদিও প্রশাসন চাইলে ১৮০ দিনের জন্য সেগুলো স্থগিত রাখতে পারে।