যুদ্ধবিরতিতে ভারতের সম্মতি

যুক্তরাষ্ট্রই এ কথা জানায় পাকিস্তানকে : ইসহাক দার

Printed Edition

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ১০ মে ভোরবেলায় নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে টেলিফোন করে জানান যে ভারত যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত এবং নয়াদিল্লি জানতে চায় যে পাকিস্তানও যুদ্ধবিরতিতে রাজি কি না। আমি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বললাম, যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা পাকিস্তানের নেই।

গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইসহাক দার। তিনি বলেন, নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় ৮০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল ভারত। পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অবশ্য ৮০টি ড্রোনের মধ্যে ৭৯টিই আটকে দিতে পেরেছিল, মাত্র একটিকে আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। তিনি বলেন, নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা করা ভারতের জন্য ভুল ছিল। কারণ এই হামলার পরই পাকিস্তান পাল্টা অভিযানের (অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস) সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পর্যটনকেন্দ্র পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। পাল্টাপাল্টি হুমকির প্রেক্ষাপটে ভারত ইসলামাবাদে সামরিক অভিযান চালায়, যার নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। পাকিস্তান অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস নামে পাল্টা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়।

মে মাসে পরিচালিত ওই অভিযানের সাত মাস পর প্রথমবারের মতো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, অভিযানের ফলে নূর খান বিমান ঘাঁটি গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর আগে কখনো অপারেশন সিঁদুরের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেনি পাকিস্তানের সরকারের কোনো মন্ত্রী। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নূর খান বিমান ঘাঁটিকে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূণ ঘাঁটি বলে মনে করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান ইসহাক দার।