নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা
পরিকল্পনা ছিল ব্যাংকের বুথে ঢুকে টাকা লুটের। সে অনুযায়ী আগে থেকেই সবকিছু ঠিকঠাক করে পঞ্চবটী গফুর সুপার মার্কেটের নিচতলায় ইসলামী ব্যাংকের বুথের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্য। প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীর সাথে সখ্য গড়ে তুলে সুযোগ বুঝে বুথের টাকা লুট করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে তারা।
রোববার ভোররাত ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটী মোড়স্থ গফুর সুপার মার্কেটের নিচতলায় ইসলামী ব্যাংকের বুথের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন—ফতুল্লা মডেল থানার পঞ্চবটী গুলশান রোড এলাকার মজিদ মাতবরের ছেলে কামাল মাতবর (৪২) এবং রূপসী হাউজিং এলাকার সাত্তার প্যাদার ছেলে কামাল প্যাদা (৪২)। তাদের দুজনেরই গ্রামের বাড়ি বরিশালের আমতলী থানা এলাকায়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতার কামাল প্যাদার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আটটিরও বেশি ডাকাতি ও লুটের মামলা রয়েছে। অপরদিকে কামাল মাতবরের বিরুদ্ধে রয়েছে ২৬টিরও অধিক মামলা।
ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দন সরকার জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের বুথে ডাকাতির সাথে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ফতুল্লার পাগলা দেলপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায়ও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় নগদ টাকা ও কয়েক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসআই নন্দন সরকার বলেন, শনিবার রাতে পঞ্চবটী গফুর সুপার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা লুটের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে অবস্থান নেয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীর সাথে আলাপচারিতা জমিয়ে তোলে তারা। পরে সুযোগ বুঝে বুথের টাকা লুট করে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে কামাল মাতবরকে আটক করে। পরে ব্যাংকের বুথের সামনে নিরাপত্তারক্ষীর সাথে আলাপরত কামাল প্যাদাকেও আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যাংকের বুথ লুটের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, গ্রেফতাররা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় বহু মামলা রয়েছে। পাগলা ক্যানেলপাড় এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার সাথেও তাদের যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
ওসি আরো বলেন, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।