ফুলবাড়ীতে ইফতারের বিশেষ আকর্ষণ ছানার পোলাও
Printed Edition
শেখ সাবীর আলী ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
সড়কের পাশে কাচের শোকেসে সাজানো নানা রকম মুখরোচক খাবার। পাশেই বড় চুলায় কড়াইয়ের গরম তেলে ছন ছন শব্দ। চার দিকে খাবারের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে। আর এসব কিনতে ভিড় করছে নানা বয়সের রোজাদাররা। এমন চিত্র এখন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হাসমিপট্টি এলাকার হাফিজুরের হোটেলে। রমজান মাস এলেই বাঙালির ইফতার আয়োজনে আসে বৈচিত্র্য। ফুলবাড়ী পৌর শহরসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকার হাটবাজারে জমে ওঠে ইফতার বাজার। হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি ফুটপাথের পাশে বসে মৌসুমি ইফতারের দোকান। এসব দোকানে ইফতারের জন্য রাখা হয় খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি চপ, হালিম, ছোলা, ডালের বড়া, মুড়ি ও জিলাপি। কোথাও কোথাও মিলছে চিকেন ফ্রাই, পিৎজা, বারবিকিউ, শামি কাবাব, সুতি কাবাব, তেহেরি, কাচ্চি বিরিয়ানি, শাহী জিলাপি ও ভুনা খিচুড়ি। ফুলবাড়ী পৌরশহরে ছোট-বড় ও মৌসুমি দোকান মিলে অন্তত শতাধিক ইফতারের দোকান বসছে এবারের রমজানে। কিন্তু এসবের ভিড়েও ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে হাফিজুরের হোটেলে বানানো মিহিদানা ও ছানার পোলাও। স্থানীয়দের কাছে এ দু’টি পদ এতটাই প্রিয় যে, এগুলো ছাড়া তাদের ইফতারই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। বিকেল ৪টার পর থেকেই মিহিদানা ও ছানার পোলাও কিনতে প্রতিদিন এই হোটেলে উপচে পড়া ভিড় জমে। তবে ক্রেতাদের ভিড় জমার আগেই দুপুর থেকে হোটেলের সামনে মিহিদানা ও ছানার পোলাওসহ অন্যান্য ইফতারসামগ্রী সাজিয়ে রাখেন দোকানিরা।
গত মঙ্গলবার বিকেলে হাফিজুরের হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের সামনে ইফতারসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে রেখেছে কয়েকজন কর্মচারী। কাচের শোকেসে রাখা পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি চপ, ডিমের চপ, বুটের ডালের বড়া, ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, নিমকি ও বুন্দিয়া। তবে অন্যান্য খাবারের চেয়ে মিহিদানা ও ছানার পোলাও কিনতেই ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ দেখা যায়। রমজানের শুরু থেকেই প্রতিদিন ইফতার কিনছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু শহিদ। তিনি বলেন, ‘এই হোটেলের ইফতারসামগ্রীর তুলনা হয় না। তবে তার দোকানের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে মিহিদানা ও ছানার পোলাও। এই দু’টি পদের জন্যই আমি প্রতিদিন এখানে ইফতার কিনতে আসি।
পৌরশহরের কাঁটাবাড়ী গ্রামের মেনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘মিহিদানা ও ছানার পোলাও ভীষণ সুস্বাদু। ইফতারে অন্য আইটেম না থাকলেও এই দুটো খাবার চাই-ই। অন্যান্য আইটেম পাওয়া গেলেও এই আইটেম সব দোকানে পাওয়া যায় না। তাই প্রতিদিন এখানে এসে ইফতার কিনি।’ সুজাপুর গ্রামের মাহাবুবুর রহমানও একই সুরে বলেন, ‘ইফতারে বাসায় প্রতিদিন মিহিদানা ও ছানার পোলাও লাগবেই। নইলে তৃপ্তি মেটে না।’
হাফিজুরের হোটেলের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান জানান, পৈতৃক সূত্রে ১৯৮৫ সালে তার বড় ভাই আব্দুর রহমান হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। পরে ১৯৯৫ সালে তিনিও বড় ভাইয়ের সাথে ব্যবসায় যোগ দেন। প্রায় ৩০ বছর আগে থেকে তিনি হোটেলে মিহিদানা ও ছানার পোলাও তৈরি করছেন। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, বুটের বেসন, চিনিসহ নানা ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় মিহিদানা। একইভাবে বুটের বেসনের পাশাপাশি দুধের ছানা ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ছানার পোলাও। কেজি-প্রতি ২০০ টাকা দরে মিহিদানা ও ছানার পোলাও বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ২০ কেজি মিহিদানা এবং ২০ কেজি ছানার পোলাও বিক্রি হয়।
রমজানজুড়ে ফুলবাড়ী শহরের ইফতার আয়োজনে বিশেষ মাত্রা যোগ করছে হাফিজুরের হোটেলের এই দুই পদ। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও এই খাবারের স্বাদ নিতে ছুটে আসছেন এখানে।