বিশ্বকাপ টিকিট নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা!
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকোয় যৌথভাবে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে ফিফাকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করেছে ফুটবল ভক্তরা। কারণটা অবশ্য অযৌক্তিকও নয়। এবারের বিশ্বকাপের টিকিট মূল্য আকাশচুম্বী। ফুটবল সমর্থদের সংগঠন ‘সাপোটার্স ইউরোপ’ জানিয়েছে, তারা ফিফার টিকিটের মূল নির্ধারণের কৌশলে বিস্মিত। এটা সমর্থকদের মুখে এক ধরনের চপেটাঘাত ও অমানবিক। এ কৌশলকে তারা চাঁদাবাজি বলে আখ্যায়িত করে টিকিট বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট মূল্য গত পরশু প্রকাশ করা হয়। গ্রুপ পর্বে ম্যাচে প্রতি টিকিটের দাম ১৮০-৭০০ ডলার (২২ থেকে ৮৫ হাজার বাংলদেশী টাকায়)। ফাইনালের সবচেয়ে কম দামি টিকিট ৪,১৮৫ ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা। আর ৮,৬৮০ ডলারে পাওয়া যাবে প্রিমিয়াম টিকিট (১০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা)। নির্ধারিত এ মূল্য ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় সাতগুণ বেশি। কাতারের ফাইনালে সব থেকে স্বস্তা টিকিট ছিল ৬০২ ডলার।
তবে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ফিফার ৬০ ডলারে টিকিট দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার সাথে বর্তমান মূল্যের কোনো মিল নেই। এমনকি বিশ্বকাপের জন্য বিডের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্তারা মাত্র ২১ ডলারে গ্রুপ পর্বের হাজারো টিকিট ছাড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন সেটাও অনুপস্থিত। শিশু বা বিশেষ গোষ্ঠীর জন্যও কোনো ছাড় রাখা হয়নি। প্রতি পরিবার এক ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি ও পুরো টুর্নামেন্টে ৪০টি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। অফিসিয়াল সমর্থকরা দলের মাধ্যামে চার হাজার টিকিট পাবেন।
এবারের টিকিটের মূল্য নির্ধারণে প্রথমবারের মতো ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ ম্যাচের টিকিটের মূল্য সেই ম্যাচের জনপ্রিয়তা বা আকর্ষণ বিবেচনায় নির্ধারণ হবে। তবে জনপ্রিয়তা কিসের ভিত্তিতে হবে সেটা উল্লেখ নেই। তবে ফিফা এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফিফা মোট টিকিটের ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয় বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে। সমর্থকরা বলেছে, এবারের মূল্য নির্ধারণে দর্শকদের আবেগকে মূল্যায়ন করা হয়নি। অবিলম্বে তারা টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া স্থগিত করে মূল্য পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।