উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে মসজিদের জমি রক্ষার দাবিতে গৃহায়ন সচিবকে চিঠি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরা তৃতীয় পর্ব আবাসিক প্রকল্পের ১৫ নম্বর সেক্টরে কেন্দ্রীয় মসজিদের জন্য নির্ধারিত ১৩.০৮ বিঘা জমি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি ওই এলাকার সিবিডি (সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট) এলাকার ভূমি বাণিজ্যিক রূপান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গাটি হারানোর আশঙ্কায় এই দাবি জানানো হয়েছে।
উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
মূল বিষয়টি কী?
কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বন সংরক্ষক (গ্রেড-১) মো: ইউনুস আলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে : ২০ মে ২০২৪ তারিখে রাজউকের বোর্ড সভায় (সিদ্ধান্ত নং ২.৩) উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পের সিবিডি এলাকার ১ নম্বর রোডে ২৬১.৬১ কাঠা বা ১৩.০৮ বিঘা জমি কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখের বোর্ড সভায় সিবিডি এলাকার ভূমিকে ডিএমটিসিএল-এর মাধ্যমে টিওডি (ঞৎধহংরঃ ঙৎরবহঃবফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ) কনসেপ্টে বাণিজ্যিক প্রকল্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এই নতুন সিদ্ধান্তে আগের বরাদ্দকৃত মসজিদের জমির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
এলাকাবাসীর দাবি ও প্রস্তাব
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বাণিজ্যিকীকরণের চাপে মসজিদের জন্য নির্ধারিত বিশাল এই ভূখণ্ডটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এই জটিলতা নিরসনে কল্যাণ সমিতি রাজউকের ৮/২০২৬ বোর্ড সভার সিদ্ধান্তটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে।
তাদের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে : ‘মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩.০৮ বিঘা জমির অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে অন্যান্য নাগরিক সুবিধাসহ টিওডি কনসেপ্ট অনুযায়ী মিশ্র বাণিজ্যিক প্রকল্প গ্রহণ করা হোক।’
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এর আগে রাজউক চেয়ারম্যানকেও চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের বিশাল এই এলাকায় ধর্মীয় ও নাগরিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নির্ধারিত স্থানটি রক্ষার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সেক্টরবাসী।
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বা রাজউক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।