নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সঙ্কটে বেড়েছে মাটির চুলার কদর
Printed Edition
কামাল উদ্দিন সুমন নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক গ্যাস সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে মাটির ও লাকড়ির চুলার ব্যবহার বেড়ে গেছে। আবাসিক লাইনে গ্যাস না থাকা এবং বাজারে এলপিজি সরবরাহ সঙ্কটের কারণে বাধ্য হয়েই জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ এখন মাটির তৈরি চুলায় রান্না করছেন। এতে চুলা প্রস্তুত ও বিক্রির সাথে যুক্তদের ব্যস্ততাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলার পর সরকারিভাবে এলপিজি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে বাজারে সঙ্কট দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। আবাসিক গ্যাসের স্বল্পতার সাথে এলপিজি না পাওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ লাকড়ির দোকান ও মাটির চুলার দিকে ঝুঁকছেন।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নসহ সিটি করপোরেশনের ১৯ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী মসজিদ, ছালেহনগর, এনয়েতনগর, বন্দর বাজার, খানবাড়ি, সোনাকান্দা, মাহমুদনগর, মদনগঞ্জ, নবীগঞ্জ, লক্ষণখোলা, দাসেরগাঁও ও হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সঙ্কট চলছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা সময় মতো রান্না করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষজন সকালে নাস্তা ও খাবার তৈরি করতে না পেরে বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ অবস্থায় যাদের বাসায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার সুযোগ রয়েছে, তারা মাটির বা সিমেন্টের তৈরি চুলা কিনে নিচ্ছেন। অনেক গৃহিণীর কাছে এখন মাটির চুলাই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে।
ঘাড়মোড়া এলাকার মাটির চুলা প্রস্তুতকারক সেলিম মিয়া বলেন, ‘আগে খুব কম বিক্রি হতো। এখন নিয়মিত চুলা বিক্রি হচ্ছে। রড, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি এসব চুলার দাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।’ বন্দর রেললাইন এলাকার স্যানিটারি ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, গত কয়েক দিনে দোকানের সব চুলা বিক্রি হয়ে গেছে, নতুন করে তৈরি করতে হচ্ছে। সোনাকান্দার বিক্রেতা কুলছুম ও জুলহাস বলেন, প্রতিদিনই চুলা বিক্রি হচ্ছে, দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
বন্দর বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফরোজা আক্তার বলেন, ‘দিনে গ্যাস থাকে না, রাতে অল্প যা থাকে তাতেও রান্না সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করছি, অথচ মাস শেষে গ্যাস বিল ঠিকই দিতে হয়।’ সোনাকান্দার ইমন হোসেন জানান, কয়েক মাস ধরে সকালে রান্না করা যাচ্ছে না। গ্যাস সঙ্কটে তাদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গ্যাস সঙ্কট কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা অনিশ্চিত থাকায় নারায়ণগঞ্জে আপাতত মাটির চুলাই হয়ে উঠছে রান্নার প্রধান ভরসা।