ইরান যুদ্ধের মধ্যে গ্রিক দ্বীপ কেনার পরিকল্পনা ইসরাইলের

Printed Edition

টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী হামলা ও তেহরানের পাল্টা আক্রমণের মধ্যে ইসরাইলের গ্রিক দ্বীপ কেনা বা ভাড়া নেয়ার পুরনো প্রস্তাব আবার আলোচনায় এসেছে। এই ধারণা প্রথম উঠে আসে ২০২২ সালে, যখন আভরি স্টেইনার প্রস্তাব দেন ইসরাইলের নাগরিকদের জন্য যুদ্ধকালীন আশ্রয়স্থল হিসেবে গ্রিসের জনশূন্য দ্বীপগুলো কেনা বা দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া নেয়ার। তিনি এটিকে “ইহুদি জনগণের জন্য আয়রন ডোম” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০টি জনশূন্য দ্বীপে জরুরি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে আবাসন, চিকিৎসাকেন্দ্র, পরিবহন ও জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে বড় ধরনের যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইসরাইলি নাগরিকদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়া যায়। তখন এ ধারণা ইসরাইলি জনমনে ব্যাপকভাবে উপহাসের শিকার হয়। সমালোচকরা বলেন, রাজনৈতিক, আর্থিক ও বাস্তবিক বাধা এত বেশি যে এটি কার্যকর নয়। গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

কয়েক বছর ধরে বিষয়টি ইসরাইলি কৌশলগত আলোচনার বাইরে ছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষ থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় আবার আলোচনায় এসেছে। ইসরাইলি নাগরিকরা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়ায় এ প্রস্তাব নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও চলমান যুদ্ধ দেশটির ভেতরে বড় সামাজিক ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় এক লাখ ইসরাইলি দেশ ছেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঙ্কটকালীন সময়ে ইসরাইল থেকে অভিবাসন বেড়ে যায়। তাই দ্বীপ কেনার প্রস্তাবকে স্থায়ী সমাধান নয় বরং জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জন্য ব্যাকআপ ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত।