ইরানের হুমকি মোকাবেলায় ইসরাইলে এফ-২২ মোতায়েন

Printed Edition
onno-21
ইরানের হুমকি মোকাবেলায় ইসরাইলে এফ-২২ মোতায়েন

টাইমস অব ইসরাইল ও আনাদোলু

ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং সম্ভাব্য সামরিক সঙ্ঘাতের আশঙ্কার মধ্যে অন্তত ১২টি মার্কিন এফ-২২ স্টিলথ ফাইটার জেট ইসরাইলের একটি বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কান এই খবর নিশ্চিত করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দক্ষিণ ইসরাইলের একটি বিমান ঘাঁটিতে এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো পৌঁছায়। কানের খবরে বলা হয়েছে, এই ফাইটার জেট মোতায়েন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা সরাসরি ইরানের হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত।

এফ-২২ র‌্যাপটরকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং শক্তিশালী যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বর্তমানে কেবল মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছেই রয়েছে। এই বিমানগুলোর কয়েকটি বিশেষত্ব রয়েছে, এর মধ্যে শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় অত্যন্ত গোপনে প্রবেশ করা, উন্নত রাডার ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকেজো করে দেয়া, শত্রুর রাডারে ধরা না পড়ে নিখুঁত হামলা চালানো অন্যতম। চলমান পারমাণবিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পরই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই তেহরানের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টির নীতি বজায় রেখেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মোতায়েনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানকে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইসরাইলের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রের মাটিতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ফাইটার জেটের উপস্থিতি এই অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

এর আগে এফ-২২ জেটগুলো ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ার ফোর্স লেকেনহিথ ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। সেখান থেকেই সরাসরি ইসরাইলে পাঠানো হয়। গত কয়েক দিন ধরে ওই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার এবং শত শত কার্গো বিমানের যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর এটাই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবেন না। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যদিও ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ কূটনীতি, তবুও প্রয়োজনে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, যেখানে ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের মতে, সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী খুব সহজেই জয়ী হবে। যদিও পর্দার আড়ালে এই হামলার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে নানা বিশ্লেষণ চলছে।

অন্য দিকে ইসরাইলি কর্মকর্তারা এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক খবরে বলা হয়েছে, দেশটির নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন ইরানের ওপর মার্কিন হামলা এখন ‘অনিবার্য’। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ইরান যদি সত্যিই কোনো কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানে রাজি হয়, তবে সেটি হবে বছরের সবচেয়ে বড় বিস্ময়। ইসরাইল মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলছে, ইরান যেন আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করার সুযোগ না পায়। একই সাথে ইসরাইলি সামরিক নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী হামলার পক্ষে মত দিচ্ছেন যাতে তেহরান পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ইরানও এই পরিস্থিতির পাল্টা জবাব দিতে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দক্ষিণ উপকূলে বিস্তৃত সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এতে ড্রোন, মর্টার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রে ও উপকূলে কাল্পনিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কৌশল প্রদর্শন করা হচ্ছে।