তুর্কমেনিস্তানে লেনদেনে ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ ঘোষণা
Printed Edition
আলজাজিরা
বিশ্বের সর্বশেষ নবীন দেশ হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং ও এর আর্থিক লেনদেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধতা দিয়েছে তুর্কমেনিস্তান। মধ্য এশিয়ার দেশটিতে গ্যাসনির্ভর ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতিতে এটি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট সেরদার বেরদিমুখামেদভ এ-সংক্রান্ত আইন স্বাক্ষর করেছেন। নতুন আইনের আওতায় ভার্চুয়াল সম্পদকে দেওয়ানি আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের জন্য লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তবে আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ডিজিটাল মুদ্রা কোনোভাবেই আইনি পরিশোধ মাধ্যম, সরকারি মুদ্রা বা সিকিউরিটি হিসেবে স্বীকৃত হবে না। মধ্য এশিয়ার সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র তুর্কমেনিস্তানের অর্থনীতি মূলত বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের রফতানির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির গ্যাসের প্রধান আমদানিকারক চীন। পাশাপাশি আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে গ্যাস সরবরাহের জন্য একটি পাইপলাইন প্রকল্পেও কাজ করছে আশখাবাত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অর্থনীতিকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বিদেশীদের প্রবেশ সহজ করতে ইলেকট্রনিক ভিসা (ই-ভিসা) চালু করা হয়। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর দীর্ঘ দিন ধরে তুর্কমেনিস্তান বিদেশীদের জন্য কঠোর ভিসানীতি অনুসরণ করে আসছে। প্রায় ৭০ লাখ জনসংখ্যার মরুভূমি অধ্যুষিত এই দেশটির রয়েছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ।
প্রথম প্রেসিডেন্ট সাপারমুরাত নিয়াজভ ১৯৯৫ সালে দেশটিকে পশ্চিমা-রুশ প্রভাব মুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। ২০০৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়াজভ কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ও গ্যাসনির্ভর অর্থনীতির নীতি বজায় রাখেন।