বাংলাদেশ যেন আবারো ফ্যাসিবাদের পরিচিতি না পায় : ড. মঈন খান
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কাজ হবে না। আমরা আবারো ফ্যাসিবাদী দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হতে চাই না। অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো ইনশা আল্লাহ। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। গতকাল এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সাম্প্রতিক হিসাবে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। তিন কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করে। ২০৫০ সালে ঢাকা শহর হবে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর। তবে সেই শহরকে আমরা কিভাবে পরিচালনা করব সেটি ভাবার বিষয়। আমরা অর্থনৈতিকভাবে এখনো শক্তিশালী না হলেও ইনফরমাল ইকোনমি দিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। ভবিষ্যতে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন তাদেরকে এসব বিষয়ে কাজ করতে হবে। যে কাজ মাত্র সাড়ে তিন বছরে করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশ সেবার পরিবর্তে আত্মসেবা শুরু করেছিল, যাকে অলিগার্কি ব্যবস্থা বলা যায়। তারা মূলত সমাজের ধনীদের দিয়ে অলিগার্ক কায়েম করেছিল। ফলে দরিদ্র মানুষ আরো দরিদ্র হয়েছে।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে ও কোষাধ্যক্ষ ডা: মো: মেহেদী হাসানের পরিচালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, সিনিয়র সহসভাপতি ডা: আবুল কেনান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ডা: খালেকুজ্জামান দীপু, কেন্দ্রীয় নেতা ডা: সিরাজুল ইসলাম, ডা: মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা: পারভেজ রেজা কাকন, ডা: এরফানুল হক সিদ্দিকী, ডা: আদনান হাসান মাসুদ, ডা: শফিউল্লাহ ঝিন্টু, ডা: সামিউল হাসান বাবু, ডা: মাসুদ আক্তার জীতু, ডা: আলমগীর হোসেন জনি, ডা: মো: জাফর ইকবাল, আবু নাসের, ডা: শামসুল আলম, ডা: আতিকুর রহমান সুজন, ডা: ফরহাদ হোসেন, দফতর সম্পাদক ডা: এরফান আহমেদ সোহেল, সহ দফতর সম্পাদক আবু নুর, মো: মাসুদ রানা, সহ দফতর সম্পাদক ডা: কায়সার ইয়ামিন ঈষাদ, সহ দফতর সম্পাদক ডা: সফিকুল ইসলাম, ডা: গালিব হাসান, ডা: রাকিবুল ইসলাম আকাশ, ডা: আমিরুল ইসলাম পাভেল, ডা: রেদওয়ান প্রমুখ।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে এসেও আমরা গণতন্ত্র খুঁজে ফিরি। এই গণতন্ত্রের জন্য তো একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার তথা মুক্তির জন্য তো মানুষ যুদ্ধ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, যারা অতীতে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বর্তমানে দিচ্ছেন তাদেরকে এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে তারা কেন ব্যর্থ? আগামীতে যারা নেতৃত্ব দেবেন তারা সেই প্রতিশ্রুতি বা আশার কথা বলবেন যে, তারা ক্ষমতায় গেলে এসবের সমাধান করবেন।
তিনি বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের জন্য অবিরাম যুদ্ধ চলছে। মনে হয় চিরন্তন সংগ্রাম। আজকে অন্তর্বর্তী সরকার বলছে তারা সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে স্বাপ্নিক দেশে পরিণত করবে। তবে সংস্কার হলো চলমান প্রক্রিয়া, এটা থেমে থাকেনি। সংস্কারের মধ্য দিয়েই কিন্তু আমরা একবিংশ শতাব্দীতে এসে পৌঁছেছি।
ড. মঈন খান বলেন, আমরা সার বছর ধরে দিবসগুলো পালন করছি; কিন্তু অর্জন কী? ৫৪ বছরে আমাদের অর্জন কী? আমি বিশ্বাস করি, আমাদের চিন্তাধারার পরিবর্তন আনতে হবে। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রথমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেটি না পারলে এত কিছু করে কী লাভ? মানুষের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে; কিন্তু কথা না বলে থাকতে পারে না।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই। তারা মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে শুনে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইনশা আল্লাহ তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন। এর মধ্যে তার দেড় যুগের নির্বাসনের অবসান ঘটবে এবং দেশের মানুষের আগ্রহেরও অবসান ঘটবে।