কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে লড়াই হবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর

Printed Edition
bangla-4
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে লড়াই হবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর

আল আমিন কিশোরগঞ্জ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার আর চায়ের দোকানে এখন একটাই আলোচনা; কে হচ্ছেন আগামী সংসদ সদস্য। সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, মূল লড়াইটি হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে।

করিমগঞ্জ উপজেলার খয়রতের মোড়ের একটি চায়ের দোকানে কথা হয় ভোটার নবী হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, এবার ভোটাররা দল নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দেবেন। বিপদে-আপদে যাকে কাছে পাওয়া যায় এবং যিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন, তাকেই ভোট দিতে চান মানুষ। তার মতোই অনেক ভোটারের ধারণা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হবে দুই প্রার্থীর মধ্যে, অন্যরা থাকবেন অনেকটা পেছনে।

আরেক ভোটার জালালউদ্দিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর মানুষ নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবে; এই অনুভূতিতে ভোটারদের মধ্যে আনন্দ ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে ভয় নেই বলেও জানান তিনি।

সরেজমিন দেখা গেছে, দুই উপজেলাজুড়ে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মাইকে প্রচারণা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া, উঠান বৈঠক- সব মিলিয়ে নির্বাচনী আমেজ স্পষ্ট। নারী কর্মীরাও দল বেঁধে প্রচারণায় নেমেছেন। সন্ধ্যা হলেই চায়ের দোকানে বসছে ‘সংসদ’, চলছে ভোটের অঙ্ক কষা।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. এম ওসমান ফারুক ও জামায়াতের প্রার্থী কর্নেল (অব:) ডা: জেহাদ খানকে ঘিরেই আলোচনা বেশি। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৫ জন। এর মধ্যে নতুন ভোটারও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী ওসমান ফারুক তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের সাংগঠনিক শক্তি ও সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান দলীয় ঐক্যের কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অন্য দিকে জামায়াতের প্রার্থী জেহাদ খান নীরব; কিন্তু ধারাবাহিক গণসংযোগ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমর্থন বাড়াচ্ছেন।

অনেক ভোটারের ধারণা, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলমগীর হোসাইন তালুকদার তৃতীয় অবস্থানে থাকতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুবই কম হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফলে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনটি এবার নির্বাচনের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ আসন হয়ে উঠেছে।