কাম্বোডিয়া সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ : থাই উপকূলীয় এলাকায় কারফিউ

Printed Edition
Int-2
থাই সীমান্তে একটি শিবিরে আশ্রয় নেয়া কম্বোডিয়ার বাসিন্দারা : ইন্টারনেট

রয়টার্স

থাইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ট্রাট প্রদেশে গতকাল রোববার কারফিউ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কাম্বোডিয়ার সাথে সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সংঘর্ষ উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সীমান্তে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের সময় চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।

সংঘর্ষে ইতোমধ্যে কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন। থাই সেনাবাহিনী নিহত সৈন্যদের লাশ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কাম্বোডিয়ার পক্ষ থেকেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, যদিও সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতার চেষ্টা করে জানিয়েছিলেন যে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সংঘর্ষ আরো বিস্তৃত হয়েছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সংগঠনগুলো, দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ হলে জীবিকা ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

থাইল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তবে সীমান্ত বিরোধ সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।