২৫৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ঘোষণা

Printed Edition
Font---------1
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমিরসহ ১০ দলীয় জোটের নেতারা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়ার কথা জানান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৫৩ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।

গতকাল রাত ৯টার পর রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়নি শরিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা আজ বেলা ৩টায় আলাদা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ১৭৯ আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এলডিপি ৭, নেজামে ইসলাম পার্টি ২, এ বি পার্টি ৩ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন দেয়া হয়েছে। খেলাফত আন্দোলন ও জাগপার বিষয়ে পরে জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের না থাকার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, তাদের সাথে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। আশা করি আমরা ঐক্য ধরে রাখতে পারব।

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বক্তৃতা করেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীরবিক্রম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ। এ সময় জোটের অন্যান্য দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা। সেখানেও অনুপস্থিত ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৈঠকের পর জানানো হয়, রাতের সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে যদি তারা উপস্থিত না থাকে তবে সমঝোতা হিসেবে ২৫০ আসনের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। আর বাকি ৫০ আসন চরমোনাইয়ের পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের সাথে আলোচনার পর বণ্টন করা হবে।

দুপুরের বৈঠক থেকে বেরিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সাংবাদিকদের জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে। তিনি চরমোনাই পীরের সাথে আলোচনা চালাচ্ছেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মামুনুল হক বলেন, ১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সাথেও কথা হয়েছে। রাতের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি ইসলামী আন্দোলনকে সাথে নিয়েই আসন ঘোষণা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। এই জোট নিয়ে আকাক্সার জায়গা আছে, এটি জনগণ বুঝে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে, এটি সবার প্রত্যাশা। যেসব মতভিন্নতা হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো কেটে যাবে। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা হবে এই জোট যেন অটুট থাকে। কারো মতানৈক্য থাকলেও জোট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ৩০০ আসনে কোনো দলীয় প্রার্থী হবে না, সবাই জোটের প্রার্থী হবে। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করবে।

দুপুরের বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ অংশ নেন।