কুলিয়ারচরে স্কুলছাত্রী অপহরণ ও নির্যাতন
Printed Edition
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর-মানিকদী সংযোগ জিল্লুর রহমান সেতু এলাকায় এক স্কুলছাত্রী অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে ওই কিশোরী তার পরিচিত এক যুবকের সাথে সেতু এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় একদল দুষ্কৃতকারী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই যুবককে মারধর করে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে কিশোরীকে জোরপূর্বক একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার সরারচর মাছিমপুর এলাকায় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত মো: তামিমকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ সময় ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুলিয়ারচর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটক তামিম পৌরসভার চারারবন মহল্লার মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু ও আশপাশের এলাকা দীর্ঘ দিন ধরে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে। একই কৌশলে প্রেমিক-প্রেমিকা বা দম্পতিদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ চক্র অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতেও একই এলাকায় এক দম্পতির ওপর অনুরূপ ঘটনার অভিযোগ ওঠে। তবে সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে সে সময় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি বলে জানা যায়।
এলাকাবাসীর মতে, সামাজিক চাপ ও লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে চান না। ফলে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সেতু এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।