বগুড়া-৬ উপনির্বাচন

আবারো বিএনপি জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটার উপস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ

Printed Edition

বগুড়া অফিস

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বগুড়া-৬ (সদর) আসনের ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে সদ্য ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছেড়ে দেয়া এই আসনে আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল মোতাবেক ইতোমধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি ) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ হয়েছেন। আগামী ১৪ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ১৫ মার্চ প্রতীক বারদ্দের পর পুরোদমে প্রচারণা শুরু হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন (ব্যালটের ক্রমানুসারে) জামায়াতে ইসলামীর মো: আবিদুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) আল-আমিন তালুকদার এবং বিএনপির মো: রেজাউল করিম বাদশা। আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই আসনের ১৫০টি কেন্দ্রে চার লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ ভোটার ভোট দেবেন।

মনোনয়নপত্র দাখিল হলেও এখনো প্রচারণা পুরোদমে শুরু হয়নি। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মো: রেজাউল করিম বাদশা প্রতিদিনই ইফতার মাহফিলসহ দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধানের শীষ বিজয়ী করতে আহবান জানাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার বিকেলে পূজা উদাপন পরিষদ আয়োজিত সনাতন সমাবেশে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা তাকে বিজয়ী করার জন্য সনাতনীদের সহযোগিতা চান।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল প্রতিদিনই ইফতার মাহফিলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী করতে দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার শহর জামায়াতের এক সদস্য (রোকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো: শাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা আব্দুল হক সরকারসহ স্থানীয় নেতারা। জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে জয়লাভের জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের জনবলকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ভোটারদের ঘরে ঘরে যেতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে রোজার কারণে ঈদুল ফিতরের পরই জোরেশোরে প্রচারণা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে মোট চার লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে তিন লাখ ২২ হাজার ৪৮৫ যা শতকরা হার ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে বিএনপির তারেক রহমান দুই লাখ ১৬ হাজার ২৮৪, জামায়াতের আবিদুর রহমান ৯৭ হাজার ৬২৬, ইসলামী আন্দোলনের আ ন ম মামুনুর রশিদ ০২ হাজার ৫০৮, বাসদের দিলরুবা সাত শ ৯৫ ও জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি পান দুই শ ৭৬ ভোট। এ দিকে উপনির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। তাই ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। সে কারণে অনেকেই ধারণা করছেন উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। সে হিসেবে ভোট গ্রহণ হতে পারে এক লাখ ৮০ হাজারের মতো। অর্থাৎ কোনো প্রার্থী এক লাখ ভোট পেলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।