কেশবপুরে নির্বাচনী উত্তাপ
বিএনপি-জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে
Printed Edition
কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে নির্বাচনী তৎপরতা ততই তীব্র হচ্ছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের গণসংযোগ, উঠানবৈঠক, পথসভা ও শোডাউন। মাঠে তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াতের মনোনীত দুই প্রার্থী। অন্য দলগুলোর প্রচারণা এখনো তেমন গতি পায়নি।
কেশবপুরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী।
বিএনপির প্রার্থী নিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আবুল হোসেন আজাদকে অধিকাংশ নেতাকর্মীই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। দলীয় সব কর্মসূচির আর্থিক খরচ একাই বহন, মামলা-হামলার সময়ে সহকর্মীদের আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা- এসব কারণে তার প্রতি বিএনপি ঘরানার ভোটারদের আস্থা ছিল প্রবল।
এমন অবস্থায় বিএনপির হাই কমান্ড রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে মনোনয়ন দিলে নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ হতাশা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রাবণের কেশবপুরে সংগঠনের প্রতি তেমন কোনো অবদান নেই এবং কোশবপুরে তার রাজনৈতিক উপস্থিতিও আগে তেমন একটা দেখা যায়নি। এ জন্য দলের একটি অংশ বিকল্প প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কথাও চাপা স্বরে বলতে শোনা যাচ্ছে।
এ দিকে আজাদ ও তার সহধর্মিণী রেহেনা আজাদও ছয় মাস ধরে নিয়মিত গণসংযোগ, উঠানবৈঠক ও সভা-সমাবেশ করে আসছিলেন। দলে তাদের নিবিড় উপস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোনয়ন-বঞ্চনার ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
এ দিকে গত এক বছর ধরে অধ্যাপক মোক্তার আলী এলাকায় দোড়ঝাঁপ, জনসংযোগ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। গ্রামে গ্রামে তার কর্মীরাও দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী মো: শহিদুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে শোডাউন, গণসংযোগ ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আবদুল হাইয়ের পোস্টার ও লিফলেটও এলাকায় দেখা যাচ্ছে। তবে এনসিপির আহ্বায়ক সম্রাট হোসেন প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও মাঠে তার তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপির প্রার্থী শ্রাবণ এখন মোটরসাইকেল শোডাউন ও তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে প্রতিদিন প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্য দিকে জামায়াতের মোক্তার আলী দলীয়ভাবে অনেক আগে থেকেই মাঠে থাকায় তার প্রচারণা আরও সুসংগঠিত বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
নির্বাচনী মাঠ এখন পুরোপুরি সরগরম। শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে- জামায়াতের অধ্যাপক মোক্তার আলী, নাকি বিএনপির রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ- তা জানতে অপেক্ষা শুধু ভোটের দিনের।