চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলায় টানা তৃতীয় শিরোপা বাঘা শরীফের
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
মাথার ওপর প্রখর রোদ। চারদিকে হাজার হাজার দর্শক। বলীখেলার মঞ্চ ঘিরে মুহুর্মুহু হাততালিতে চট্টগ্রামের লালদীঘি এলাকায় উৎসবের আমেজ। তখন বেলা ৩টা। একে একে ১৩০ জন বলী শারীরিক কসরত দেখিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তুলছিল। হঠাৎ মাইকে ঘোষণা আসলো ফাইনাল খেলার দুই কুস্তিগীর কুমিল্লার বাঘা শরীফ ও মোহাম্মদ রাশেদের নাম। ফাইনালে বলী ধরে কুমিল্লার বাঘা শরীফের কাছে ধরাশায়ী হন রাশেদ। তখন ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলার রেফারি হাফিজুর রহমান বাঘা শরীফকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উল্লাস করেন। পরপর তিন বছর ধরে জয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন শরীফ। চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে দারুণ খুশি বাঘা শরীফ। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, খুবই ভালো লাগছে। স্বপ্ন ছিল হ্যাটট্্িরক চ্যাম্পিয়ন হবো। অবশেষে হ্যাটট্্িরক চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে।
এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ পান ট্রফিসহ নগদ ৩৫ হাজার টাকা। রানার্স আপ রাশেদ বলী পান ট্রফিসহ নগদ ৩০ হাজার টাকা। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী সেনাবাহিনীর সদস্য মিথু পেয়েছেন নগদ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রথম রাউন্ডে জয়ী ৪০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। বেলা ৩টা থেকে রিংয়ে বলীখেলা শুরু হয়। ১৩০ জন বিভিন্ন বয়সী বলী এতে অংশ নেন। বিকেলে বেলুন উড়িয়ে বলীখেলার উদ্বোধন করেন নগর পুলিশের কমিশনার হাসান মো: শওকত আলী। পরে পুরস্কার বিতরণী পর্বে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপসহ বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো: আশরাফুল আমিন।
জব্বারের বলীখেলা আয়োজক কমিটির সদস্য ও আব্দুল জব্বারের নাতি আকতার আনোয়ার চঞ্চল বলেন, চারজন ‘এ’ গ্রুপে এবং চারজন ‘বি’ গ্রুপে লড়েন। এ ছাড়া নকআউট পর্বে লড়েন আরো ৪০ জন বলী। ধাপে ধাপে সেমিফাইনাল পর্ব পার হয়ে ফাইনাল পর্বে খেলেন বিজয়ীরা।
প্রসঙ্গত : প্রতিবছর ১২ বৈশাখ এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়। বলীখেলাকে ঘিরে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা বসে লালদীঘির আশপাশের এলাকায়। এবার বৃহস্পতিবার থেকে লালদীঘির মাঠ ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। ঝাড়ু ও তালপাতার হাতপাখা ছিল নারী-পুরুষের প্রথম পছন্দ। গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী, শিশু-কিশোরদের খেলনা, গৃহসজ্জার জিনিস, তৈজসপত্র, ঝাড়ু, কুড়াল, আসবাব, গাছপালা, কী নেই এই মেলায়! গতকাল শনিবার শেষ হয় এই প্রাণের মেলা। ১৯০৯ সালে বকশিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে এই বলীখেলার প্রচলন করেছিলেন। এবার ১১৭তম আসর। মাঝখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং করোনার কারণে তিন বছর বলীখেলা হয়নি।