চুয়াডাঙ্গায় কর্মী হত্যার বিচার দাবি

ইরানে হামলা ও খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে গতকাল বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, ছাত্র-জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ইসলামের উত্থান সহ্য করতে না পেরে একটি পক্ষ ইসরাইলকে ব্যবহার করে ইরানকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ইরানের পার্লামেন্টে হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের পরও দেশটির অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। একই সাথে প্রশ্ন তোলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে পারে। জাতিসঙ্ঘের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত সংস্থাটি যদি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ নেয়, তবে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি জাতিসঙ্ঘ ও ওআইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, ইরানে হামলার পেছনে কেবল ইসরাইল নয়, আরো শক্তিধর রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বিশ্ববাসীর ধারণা। এ ধরনের ঘটনা বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তিনি আন্তর্জাতিক আইন ছোট-বড় সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ইরানে সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্ঘাত বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. রেজাউল করিম।

জামায়াত কর্মী হত্যার বিচার দাবি

সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং আরো কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

নেতারা বলেন, অন্যথায় দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে সাথে নিয়ে সব অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।