মিশ্র সূচক, তবু ডিএসইতে লেনদেনে বড় অগ্রগতি
লেনদেনে ব্যাংকিং খাতের প্রাধান্য
Printed Edition
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
এক দিন ইতিবাচক ধারা বজায় থাকার পর ফের বিক্রয়চাপে অস্থির হয়ে উঠেছে পুঁজিবাজার। গতকাল দেশের দুই শেয়ারবাজারেই এমন চিত্র দেখা গেছে। দিনের শুরুটা ভালো হলেও লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্ট বিক্রয়চাপ সূচকে অস্থিরতা তৈরি করে। দিনশেষে ঢাকা শেয়ারবাজারে প্রধান সূচক কিছুটা কমে যায়। পাশাপাশি ডিএসই শরিয়াহ সূচকও নিম্নমুখী হয়। তবে ডিএসই-৩০ সূচকে উন্নতি হয়েছে। লেনদেনেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে সব সূচক কমবেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার এখনো পুরোপুরি আস্থায় ফিরতে পারেনি। এক দিন বড় উত্থান হলে পরদিনই মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এটিকে তারা বাজারের স্বাভাবিক আচরণ বলেই মনে করেন। কে কোন তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ার কিনছেন বা বিক্রি করছেন; তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। অনেক সময় ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ হারায়, আবার তুলনামূলক দুর্বল কোম্পানিতেও আগ্রহ বাড়ে।
তাদের মতে, পুঁজিবাজারে মূলত তথ্যের ভিত্তিতেই বিনিয়োগ হয়ে থাকে। যাদের কাছে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য বেশি থাকে, তারা তুলনামূলক বেশি মুনাফা করতে সক্ষম হন। পাশাপাশি কোম্পানির অতীত লভ্যাংশ ইতিহাস ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতাও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১০ দশমিক ৭১ পয়েন্ট কমে যায়। মঙ্গলবার সকাল ৫ হাজার ৫৫৩ দশমিক ০৭ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে দিনশেষে সূচকটি নেমে আসে ৫ হাজার ৫৪২ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ৬ দশমিক ০৮ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমেছে।
অন্য দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব সূচকই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বেড়েছে। বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৮৭ ও ১ দশমিক ০৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূচকের মিশ্র আচরণ সত্ত্বেও গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন বেড়েছে। এ দিন ডিএসইতে মোট ৮২৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০৬ কোটি টাকা বেশি। সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৭১৮ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারেও লেনদেন ১৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৯ কোটিতে পৌঁছেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, লেনদেনের এই বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক। কারণ লেনদেন বাড়া মানে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত। এতে আগামী দিনে বাজারে ইতিবাচক ধারা তৈরি হতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আর্থিক খাতে কী ধরনের সংস্কার আনে, তার ওপরও বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অনিয়মে জর্জরিত পুঁজিবাজারে কার্যকর সংস্কার পরিকল্পনা আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে প্রাধান্য ছিল ব্যাংকিং খাতের। শীর্ষ লেনদেনকারী তিনটি কোম্পানিই ছিল ব্যাংক খাতভুক্ত, যা মোট লেনদেনের ১৫ শতাংশের বেশি দখলে রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, লভ্যাংশ ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসায় ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। দীর্ঘদিন দরপতনের কারণে অনেক ব্যাংকের শেয়ারদর এখনো বিনিয়োগকারীদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) সহনীয় পর্যায়ে থাকাও আগ্রহ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক। ৬৪ কোটি আট লাখ টাকায় কোম্পানিটির দুই কোটি তিন লাখ ১৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক- ৩৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় ৪০ লাখ ১৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- ইস্টার্ন ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যমুনা ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম কটন মিলস ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ইনটেক অনলাইন, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সোনারগাঁও টেক্সটাইলস- দর বেড়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলো হলো নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট, ইস্টার্ন ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সমতা লেদার, জিকিউ বলপেন, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বিডি কম অনলাইন, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড ও এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
অন্য দিকে দরপতনে শীর্ষে ছিল এল আর গ্লোবাল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, যার দর কমেছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ- দর কমেছে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। দরপতনের তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো জিবিবি পাওয়ার, সাইফ পাওয়ার, কে অ্যান্ড কিউ, তিতাস গ্যাস, খুলনা পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং, জাহিন স্পিনিং, মুন্নু ফেব্রিক্স ও পিএইচপি মিউচুয়াল ফান্ড।