দুই যুগেও জোটেনি কাজিপুর মহিলা কলেজে একাডেমিক ভবন
Printed Edition
নুরুল ইসলাম রইসী সিরাজগঞ্জ
প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো নিজস্ব একাডেমিক ভবন পায়নি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা সদর মহিলা ডিগ্রি কলেজ। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সঙ্কটে ভুগলেও শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি থেকে হাজারো ছাত্রী কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থায়ী ভবনের অভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়তই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
১৯৯৯ সালে যমুনা নদী তীরবর্তী কাজিপুর উপজেলা সদরে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কৃষি ও চরাঞ্চলের নারীদের উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই অধ্যক্ষ টি এম হাসান মনসুর মিলনের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠার শুরুতে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের দান করা প্রায় ১১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির ওপর টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পাঠদান শুরু হয়।
২০০৪ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কলেজটি স্বীকৃতি পায় এবং এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে ১৮ জন শিক্ষক, ২ জন প্রদর্শক ও ১৩ জন কর্মচারী এমপিওভুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজটিতে ৩১২ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি নারী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। একসময় দূরবর্তী চরাঞ্চলের ছাত্রীদের জন্য বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ হোস্টেল সুবিধাও চালু ছিল, যা আর্থিক সঙ্কটের কারণে ২০০৭ সালের পর বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি নেয়া হয় না, তাই নিজস্ব অর্থায়নে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
এখনো পুরনো টিনশেড ঘরেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। গ্রীষ্মকালে তীব্র তাপদাহে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
অধ্যক্ষ টি এম হাসান মনসুর মিলন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একই উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন নির্মিত হলেও এই কলেজটি এখনো অবহেলিত রয়ে গেছে। এদিকে, সদ্য নির্বাচিত সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো: সেলিম রেজা কলেজটির একাডেমিক ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, বরাদ্দ ও কোটার প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই কলেজে দ্রুত একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ জরুরি। দীর্ঘদিনের এই অবকাঠামোগত সঙ্কট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি আরো এগিয়ে যাবে এবং চরাঞ্চলের নারীদের শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত হবে।