ঢাকা চাইলে দিল্লিকে সবাদ দিয়ে নতুন ব্লকে যুক্ত হতে পাওে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
দিল্লিকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামাবাদ যে নতুন ব্লক সৃষ্টির কথা বলছে, ঢাকা চাইলে তাতে যুক্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নেপাল বা ভুটানের পক্ষে ভারতকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের সাথে কোনো ব্লকে যোগ দেয়া সম্ভব না। কিন্তু আমাদের পক্ষে সম্ভব। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার একটি কথা বলেছেন, কোনো এককালে হয়তো এটার অগ্রগতি হতেও পারে।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন এ মন্তব্য করেন। গত বুধবার ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে ইসহাক দার বলেছেন, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে সম্প্রতি একটি ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি এ অঞ্চল এবং অঞ্চলের বাইরের অন্যান্য দেশকে নিয়ে আরো সম্প্রসারিত হতে পারে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল।
চীনের কুনমিংয়ে ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের একটি সভায় বাংলাদেশ যোগ দিয়েছিল। তবে উদ্যোগটি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্কতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ এই উদ্যোগের সাথে আরো কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার তাগাদা দিয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরোধিতা এর লক্ষ্য নয়। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর এই উদ্যোগকে ভারত সন্দেহের চোখে দেখছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনাকে ঢাকায় ফেরত পাঠাতে আমরা ভারতকে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাব। তবে তার প্রত্যর্পণ শেষ পর্যন্ত দিল্লির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তৃতীয় দেশে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য পুনর্বাসনসংক্রান্ত খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আমি এ বিষয়ে কোনো তথ্য পায়নি। এ ধরনের খবর কেবল গণমাধ্যমে দেখেছি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রচেষ্টা সম্পর্কে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটা একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। দেখা যাক, আমরা কতদূর যেতে পারি। র্যাবের সংস্কারে স্পষ্টত অনেক অগ্রগতি হয়েছে, এটা অনেকে স্বীকার করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টার কোনো অভাব নেই। কারো মানবাধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়, কেউ যেন গুম না হয়, কেউ যেন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার না হয়, এ বিষয়ে আমাদের শতভাগ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
বাংলাদেশে কোনো শাসকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, আমার মনে হয় না এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা আছে। এ রকম কোনো অভিযোগ দেখতে পাচ্ছি না।
বিগত সরকারের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (জিসোমিয়া) নিয়ে আলোচনা চলছে। এ চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটা নিয়ে তো বহুদিন ধরে আলোচনা চলছে। আরো একটু অগ্রগতি হোক।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশে ২৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রসমূহ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কোনো বার্তা এসেছে কি না - জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটার বিস্তারিত আমি বলতে পারব না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের অভিযোগ দেয়নি।
জাল ডকুমেন্টের বিড়ম্বনা : বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ক্রমবর্ধমান হার সম্পর্কে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভাবমর্যাদার ক্ষতি হয়েছে বলেই বাংলাদেশীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা বাড়ছে। আমার জানা মতে, পৃথিবীতে আর কোনো দেশ নেই, যেখানে ভিসার জন্য এতো পরিমাণ জাল ডকুমেন্ট দেয়া হয়। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, এমনকি যেখানে সঠিক ডকুমেন্ট দেয়া সম্ভব, সেখানেও ভুয়া ডকুমেন্ট জমা দেয়া হচ্ছে। কারণ আমরা কষ্ট করতে রাজি না। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ব্যাংকে গিয়ে নিতে হয়। কিন্তু অনেকে এটাও এজেন্টের ওপর ছেড়ে দেন। এজেন্ট জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেয়। এরপর ভিসা নিয়ে সমস্যা হয়। ব্রিটেন অভিযোগ করছে ভুয়া আইএলটিএস রেজাল্ট জমা দেয়া হচ্ছে।
ভিসার জন্য জাল ডকুমেন্ট বন্ধ করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের এখতিয়ারের বাইরে মন্তব্য করে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা যদি জালিয়াতির প্রক্রিয়া বন্ধ করতে না পারি, তবে সমস্যাটা চলতেই থাকবে। আর এ কারণে প্রকৃত ভিসা প্রার্থীরা ভুগবে। কারণ দূতাবাসগুলো সবার কাগজপত্রই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে। এতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।