তনু হত্যা মামলা
১০ বছর পর প্রথম আসামি গ্রেফতার ৩ দিনের রিমান্ড
Printed Edition
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা সেনানিবাসে ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম হাফিজুর রহমান, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। পরে তাকে আদালতে তোলা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল বিকেলে তাকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সদর আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক। তনুর ভাই রুবেল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তনুর মা বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আমরা তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তবে এখনো ম্যাচিং করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পরিদর্শক মো: মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো: তরিকুল ইসলাম।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালতের তলবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতে হাজির হন। এ সময় তিনি মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করলে বিচারক এতে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হলেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। অপর দু’জন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তারাও বর্তমানে অবসরে আছেন। এদিকে মামলার বাদি ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, অভিযুক্ত সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ হবে।