লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা

বিদ্যুৎ নেই, কোনো জেনারেটর বা সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারাচ্ছন্ন। তীব্র গরমে ওয়ার্ডে থাকা দায় হয়ে পড়ে

Printed Edition

মুহিব্বুল্লাহ বচ্চন পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)

বিদ্যুতের চরম লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কট এবং বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। রাতে লোডশেডিংয়ে হাসপাতালটিতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

সরেজমিনে রাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ নেই, কোনো জেনারেটর বা সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারাচ্ছন্ন। তীব্র গরমে ওয়ার্ডে থাকায় দায় হয়ে পড়ে। রোগীরা বাতাস আর ল্যাম্পপোস্টের আলোর আশায় বারান্দায় ভিড় করছেন। এমনকি বাথরুমগুলোতেও নেই আলোর কোনো ব্যবস্থা।

রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ, দিনে রাতে গড়ে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। সুস্থ হতে এসে উল্টো ভুতুড়ে পরিবেশ আর গরমে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কর্মরত একাধিক নার্স জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে রোগীর শরীরে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। নিরূপায় হয়ে নিজেদের অর্থায়নে নার্সরুমে একটি আইপিএসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি রোগীদের এই রুমে এনে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া হচ্ছে।

মেডিক্যাল অফিসার তাওহিদুল ইসলাম তুহিন জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় হার্ট ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আইপিএস দিয়ে কয়েকটা লাইট জ্বালিয়ে কোনোমতে সেলাই বা জরুরি কাজগুলো করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর-এ-আলম জানান, হাসপাতালটিতে বিকল্প কোনো আইপিএস বা সৌরবিদ্যুৎ নেই। উপজেলা পরিষদ থেকে থেকে একটি জেনারেটর দেয়া হলেও জ্বালানি ক্রয়ের কোনো বরাদ্দ না থাকায় সেটিও বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সঙ্কটে টিকাদান এবং টিকা সংরক্ষণও চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নিতাই দাস বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় এমন লোডশেডিং হচ্ছে। পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, আইপিএসের বিষয়টি মিটিংয়ে আলোচনা করব। ইউএনও রুপম দাস বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে জেনারেটরটি সচল করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।