পথে পথে লাল-সবুজের পতাকাওয়ালা : নিয়ামুর রশিদ শিহাব
এই মানুষেরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, বিজয় দিবস শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা অনুভূতি
Printed Edition
বিজয় দিবস এলেই শহরের মোড়গুলো যেন এক অন্যরকম রঙে রাঙিয়ে ওঠে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে শতশত পতাকা বিক্রেতা। তাদের হাতে ধরা লাল সবুজের ছোট-বড় কাগজের পতাকা, কাপড়ের পতাকা, গাড়িতে বাঁধার স্টিকার সবই যেন বাংলাদেশের গৌরবের প্রতীক।
এই পতাকা বিক্রেতাদের বেশির ভাগই আসে গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে। কারো বাবার রিকশা, কারো মা গৃহকর্মী। এ কারণে আয়ের পথ খুবই সীমিত। বছরের অন্য সময় তারা নানা কাজ করে; কিন্তু বিজয় দিবস এলেই সামান্য আয়ের আশায় নেমে পড়ে পতাকা বিক্রিতে। অনেকেই ভোরে এসে জায়গা ধরে রাখে, আবার কেউ কেউ হেঁটে এ গলি ও গলি। এভাবে নানা গলিতে গিয়ে পতাকা বিক্রি করে থাকে। অনেক সময় নিজেরাই হাতে তৈরি করে। আবার অনেকে বানানো পতাকা কিনে এনে বিক্রি করে থাকে। ঠাণ্ডা বাতাস, ধুলোবালু, দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা সব কষ্ট উপেক্ষা করেই তারা হাসিমুখে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয় দেশপ্রেমের এই প্রতীক।
পতাকা বিক্রেতাদের গল্প শুধু ব্যবসার নয়, এটি এক ধরনের আবেগেরও গল্প। তাদের চোখে দেখা যায় বিশেষ দিনের উত্তেজনা, যেন পতাকা বিক্রি নয় নিজের দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ভাগ করে নেয়া। অনেকে বলেন, ‘ভাই, সারা বছর কষ্ট করি; কিন্তু বিজয় দিবসে মানুষের মুখে হাসি দেখে সব ভুলে যাই।’
এই মানুষেরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, বিজয় দিবস শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা অনুভূতি। তাদের হাত ধরেই লাল-সবুজ পৌঁছে যায় লাখো মানুষের ঘরে, মনেও জাগে দেশপ্রেমের আলো।
তাই বিজয় দিবসে যখন আমরা পতাকা উড়াই, তখন একবার ভাবা উচিত এই পতাকা আমাদের হাতে তুলে দেয়া মানুষটির পরিশ্রম, সংগ্রাম ও স্বপ্নের কথাও। তারা না থাকলে হয়তো উৎসবের উচ্ছ্বাস এতটা রঙিন হতো না।
লেখক : শিক্ষার্থী, গ্লোবাল ইউনিভাসির্টি বাংলাদেশ