দ্বিতীয় পর্বে ৬৬ গোল
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রথম ২৪ ম্যাচে হয়েছিল ৭৫। পরের ২৪ ম্যাচে হলো ৬৬ গোল। এই পর্বে তিনটি ম্যাচ (ইকুয়েডর-কুরাসাও, বেলজিয়াম-ইরান, ইংল্যান্ড-ঘানা) হয়েছে গোলশূন্য ড্র। প্রথম পর্বে ছিল একটি। সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে কানাডা। তারা কাতারকে হারিয়েছে ৬-০ গোলে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস ৫-১ গোলে সুইডেনকে, পর্তুগাল ৫-০ গোল উজবেকিস্তানকে হারিয়েছে। প্রথম পর্বের চেয়ে দ্বিতীয় পর্বে ৯ গোলে কম হলেও নানা ঘটনায় হয়েছে বিশ^রেকর্ড।
ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সব দলের দু’টি করে ম্যাচ শেষ। এখন আর শুধু মাঠের লড়াই নয়, শুরু হয়েছে পয়েন্ট, গোল ব্যবধান আর সমীকরণের হিসাব। ৪৮ দলের এই বিশাল টুর্নামেন্টে কেউ ইতোমধ্যে শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে, কেউ আবার টানা দুই হারে বিদায়ের পথেই হাঁটছে। দুই ম্যাচ শেষে বড় দলগুলোর কেউ কেউ প্রত্যাশামতো এগিয়ে আছে, আবার কিছু গ্রুপে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
রেকর্ড আর চমক দিয়েই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ইতিহাস গড়া থেকে শুরু করে লিওনেল মেসির নতুন রেকর্ড, ইরানের লড়াকু মানসিকতা কিংবা তুরস্কের হতাশাজনক বিদায় ছিল এই পর্বে। কেবল রেকর্ড আর লড়াইয়ের ঘটনা নয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে দলের উদযাপন নিয়েও হয়েছে নানান আলোচনা। এছাড়া তারকাদের স্মরণীয় গোল উৎসব, নতুন নিয়মের লাল কার্ডের ঘটনার দেখা মিলেছে।
বিশ্বকাপের শুরুতে গোল না পেলেও শেষ পর্যন্ত সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের ৫-০ গোলের বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। এর মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। ৩৯তম জন্মদিন উদযাপন করতে যাওয়া লিওনেল মেসি যেন বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই খেলছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে এখন তার গোলসংখ্যা ১৮। ৯৬ বছরের বিশ্বকাপে কোনো একক ফুটবলার এত গোল করতে পারেননি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এখন মেসির দখলে।
দ্বিতীয়বারের মতো একই দিনে গোলের দেখা পেয়েছেন মেসি, এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথমে জোড়া গোল করেন মেসি, পরে ইরাকের বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েন এমবাপ্পে। দিনশেষে হলান্ডও সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আলো ছড়ান। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে আছেন এই তিন তারকা। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নকআউট নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। সাফল্যের পর দলটির বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে সেই উদযাপনে গলা মিলিয়েছেন হাজারো নরওয়েজিয়ান সমর্থক। ৯২ বছরের অপেক্ষা মিসরের। বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেতে মিসরকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৯২ বছর। নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ভ্যাঙ্কুভারের রাস্তায় সমর্থকদের সাথে নেচে-গেয়ে উদযাপন করেন মোহাম্মদ সালাহরা। স্বাভাবিকভাবেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ‘ইজিপশিয়ান কিং’ সালাহ। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সাথে ২-২ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জাপান। চার পয়েন্ট নিয়ে এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে তারা। ছক অনুযায়ী জাপানের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও বেশ উজ্জ্বল।