ফারসি রোমান্টিক কবি
নাদেরপুর-এর তিনটি কবিতা
Printed Edition
ভূমিকা ও ভাষান্তর : মীম মিজান
উদ্যান
হাজার হাজার বছরও যথেষ্ট ছিল না, এখনো নয়
সেই চিরপলায়ন মুহূর্তকে বর্ণনা করার জন্য;
সে মুহূর্ত, যখন তুমি আঁটসাঁটভাবে এসে জড়িয়ে ধরেছিলে আমাকে,
সে মুহূর্ত, যখন আমিও গিয়েছিলাম তোমার বুকে নিবিড় হয়ে
আমাদের শহরের সেই বাগানে,
আমাদের শীতের প্রভাতের আলোয় ভরা সেই শহরে,
যে শহর আমার জন্মস্থান, তোমারও;
মাটির ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই শহর,
যে মাটি এক তারা’র কোলে থাকা নক্ষত্রমণ্ডলের মতো।
আঙুর কাব্য
এই কারাগারকে যাকে জীবন বলে
তার বাঁধন থেকে আমার মুক্তি নেই।
কেন মৃত্যুর আশায় মন বেঁধে রাখি?
মৃত্যু থেকে তো আর কোনো বিচ্ছেদ নেই!
মৃত্যু, হ্যাঁ মৃত্যু,
এই নিঃশ্বাস-পোড়া অন্ধকার;
এই জীবন, যা নীরবে গড়িয়ে যায়;
এই রাতগুলো, যা আমায় ভোর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়;
এই ভোরগুলো, যা আমায় আবার রাতের দিকে ঠেলে দেয়।
মৃত্যু, হ্যাঁ মৃত্যু,
এই মাতলামি আর হুঁশের ঠোকাঠুকি,
এই ঘুমভেজা রাতগুলো,
আর সেই দিনগুলো, যা ফিরে যায় জাগরণে।
ওহে বৃথা আশা!
আর কতদিন
দিন-রাতের চোরদ্বয়ের সাথে
বন্ধন ও বিচ্ছেদের প্রতারণা সহ্য করব?
কতদিন অন্ধকারের বুকে
সূর্য উঠবে দু’চোখ মেলে?
কতদিন চাঁদ হাসবে
জামশিদের হারানো পেয়ালার মতো?
আমি জানি, এক রাত
মৃত্যুর রক্তলোভী হাত
আমার গলায় নেমে আসবে।
জানি, এক রাত
ওই ব্যাকুল, অস্থির চোখেরা
আমাকে লুট করতে উঠবে।
আর কতদিন
নির্জন কারাগারের ভেতর
অপেক্ষার আগুনে ঝলসাবো?
যা আছে, তা নিয়ে কত বলব?
যা নেই, তা নিয়ে আর কত বলি?
হে জ্বালা-পোড়া বুকে, একটি আর্তনাদ দাও!
হে মৃত্যুগন্ধী বন্য গোঙানি, এসো সাহায্যে!
জ্বরের দহন, অসুখের ভয়,
হারানো পথ,
চার দিকে মৃত্যু আর বিভ্রান্তির ছায়া।
রাতের অশ্রু, ভোরের দীর্ঘশ্বাস,
অন্ধকার আর উৎকণ্ঠার মুহূর্তগুলো,
আমি হতবুদ্ধি, আমার শেষ কোথায়?
কারণ যা আছে তা আমায় ভয় দেখায়,
আর এই শাশ্বত মৃত্যুর দুঃস্বপ্ন থেকে আমি পালাই।
তবু হৃদয়ে আবার জন্ম নেয় নতুন মৃত্যুর আশা।
এবার ফিরে এসো, ও বৃথা আশা!
এবার দূরে সরে যাও, ও ভারী নীরবতা!
ঘুমিয়ে পড়া চাঁদ, আকাক্সক্ষা, আবার হাসিমুখে ওঠো!
শরীর ভেঙে আসছে, প্রাণ শেষ;
হে আকাশ! রাতের জানালা খুলে দাও!
হে নিয়তি! চোখ খুলে দেখাও
সেই তাকে, যে আমার ভেতরেই আছো!
মায়া হরিণ
হে মানুষ,
কোনো ক্ষুধার্ত হরিণের বংশধারার সন্তান কি তুমি?
সে বংশ, যাদের ভেতরটা শূন্য,
তবু পূর্ণ চোখে জবাব দেয় পৃথিবীকে!
এই ক্ষুধা আর তৃপ্তির মিলন,
ক্ষুধার্ত হৃদয়ের চোখে
একটি হরিণ,
আর তৃপ্ত হরিণের চোখে,
শুধুই সৌন্দর্য।