নি ত্যো প ন্যা স
ঘটন-অঘটন সুন্দরবন
Printed Edition
প্রিন্স আশরাফ
একশ’ তেতাল্লিøশ.
লতাপাতায় ওই নৌকার ছইয়ের ওপর ঢাকা থাকলেও ছইয়ের মুখের কাছে দাঁড়িয়ে একটা মেয়ে বন্দুক তাক করে আছে। মেয়েটার বয়স দূর থেকে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। তবে কুড়ি-বাইশের বেশি হবে না অনুমান করা যায়। গাছপালার পাতা রঙের সালোয়ার কামিজ পরে আছে। বুকের ওড়নাটা শক্ত করে বুকের উপর থেকে পেছিয়ে যুদ্ধংদেহীভাবে কোমরে শক্ত করে গোঁজা। যেভাবে উঁচিয়ে আছে তাকে দেখে দস্যুরানী ফুলন দেবীর কথাই মনে পড়ে। শুধু মাথায় লাল ফেট্টি বাঁধা নেই। সেখানে শক্ত করে টেনে চুল বাঁধা। শরীরের রঙও রোদেপুড়ে গাঢ় শ্যামলা।
নাভিদ পিস্তল উঁচিয়ে ধরেই চেঁচাল, ‘ভয় পাবেন না। আমরা ডাকাত নই। আপনাদের বন্দুক নামিয়ে ফেলুন।’ বন্দুকের পেছনে নৌকার ভেতর থেকে বসে থাকা অবস্থায় আরেকটা মুখ উঁকি দিলো। এটাও মেয়ে মানুষের মুখ। মধ্যবয়স্কা নারী। ব্যাপার কি! এই শ্বাপদসঙ্কুল গহিন জঙ্গলে এই নারী কোত্থেকে উদয় হলো? এরা এখানে করছেইবা কি? এভাবে লুকিয়ে আছে কেন? নারী ডাকাত নাকি? এরকম তো একবার শোনাও গিয়েছিল। খবরের কাগজে সুন্দরবনের নারী ডাকাতের কথা ছেপেছিল। এরা তারাই নাকি? (চলবে)