গাজায় নিহত ইসরাইলের ভাড়াটে বাহিনীর নেতা কে এই আবু শাবাব
অধিকাংশ ফিলিস্তিনির কাছে তিনি ছিলেন একজন অপরাধী
Printed Edition
আলজাজিরা
গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত মিলিশিয়া নেতা ইয়াসের আবু শাবাবের হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করেছে তার সংগঠন ‘পপুলার ফোর্সেস’ এবং ইসরাইলি গণমাধ্যম। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে আবু শাবাব নিজেকে হামাসের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, তবে অধিকাংশ ফিলিস্তিনির কাছে তিনি ছিলেন একজন সহযোগী ও অপরাধী।
দক্ষিণ গাজার বেদুইন তারাবিন গোত্রের সদস্য আবু শাবাব ত্রিশের কোঠায় ছিলেন। তিনি মূলত অখ্যাত ছিলেন, তবে গত বছর ‘অ্যান্টি-টেরর সার্ভিস’ নামে একটি সশস্ত্র দল গঠন করে আলোচনায় আসেন। পরে এ দলটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পপুলার ফোর্সেস’। প্রায় ১০০ জন যোদ্ধা নিয়ে এ দল ইসরাইল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সক্রিয় ছিল।
যদিও দলটি নিজেদের জাতীয়তাবাদী ফিলিস্তিনি সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিত, বাস্তবে এটি ছিল একদিকে অপরাধী চক্র, অন্যদিকে ইসরাইলের প্রক্সি বাহিনী। ফিলিস্তিনিদের কাছে আবু শাবাবের অতীত ছিল কলঙ্কিত, তিনি মাদকসংক্রান্ত অপরাধে গাজায় কয়েক বছর কারাভোগ করেছিলেন এবং যুদ্ধ শুরুর পর কারাগার থেকে পালিয়ে আসেন।
ইসরাইলের সাথে তার পরবর্তী জোট তাকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে। গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তার সহযোগিতা গোত্রের কাছেও অগ্রহণযোগ্য ছিল। তারাবিন গোত্র এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তার মৃত্যু একটি অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি, যা গোত্রের ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে না।’
আবু শাবাবের আদর্শিক অবস্থান সবসময়ই অস্পষ্ট ছিল। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, তিনি ক্ষমতার লোভে চালিত ছিলেন, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে নয়। তার সংগঠনের নামকরণে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ শব্দ ব্যবহার করা হলেও তার বিরুদ্ধে আইএসআইএলের সাথে সীমান্তবর্তী চোরাচালানে সহযোগিতার অভিযোগ ছিল।
আবু শাবাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইংরেজি পোস্ট দিতেন এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে একটি মতামত নিবন্ধও প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, তার বাহিনী রাফাহর পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ‘নতুন ভবিষ্যৎ গড়তে প্রস্তুত।’ তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন, তার সরকার হামাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় সশস্ত্র গোত্রগুলোকে ব্যবহার করছে, যার মধ্যে আবু শাবাবের বাহিনীও ছিল।
পপুলার ফোর্সেস মানবিক সহায়তা রক্ষার দাবি করলেও জাতিসঙ্ঘের অভ্যন্তরীণ নথি ও স্থানীয় সূত্রে তাদের বিরুদ্ধে ত্রাণ লুটের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে গাজার সাধারণ মানুষ তাদেরকে ইসরাইলের প্রক্সি বাহিনী হিসেবেই দেখেছে। অবশেষে আবু শাবাবের মৃত্যু গাজায় অনেকের কাছে স্বস্তি এনেছে। তার উত্থান যেমন ছিল রহস্যময়, তেমনি মৃত্যু ঘিরেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে স্পষ্ট হয়ে গেছে, হামাসের বিকল্প হিসেবে তিনি কোনোদিনই জনসমর্থন অর্জন করতে পারেননি।