সাতক্ষীরায় মা- ছেলে ও কুষ্টিয়ায় ২ পুলিশ নিহত
অন্যান্য স্থানে নিহত আরো ৮
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সড়ক দুর্ঘটনায় সাতক্ষীরায় মা ও ছেলে এবং কুষ্টিয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পৃথক দুর্ঘটনায় দেশের অন্যান্য স্থানে আরো আটজন নিহত হয়েছেন।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরায় মহেন্দ্র ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো সাতজন। মঙ্গলবার পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের ভৈরবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পদ্মশাখরা গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রীর শারমিন সুলতানা (২৬) ও তাদের ছেলে মুস্তাকিম (৮)। আহতরা হলেন- মোয়াজ্জে হোসেন (৫০), আইনুল হক (৩৮), নুরুজ্জামান (৫০), তাপস (৩০), মনোরায়া খাতুন (৫৫) ও মিনু (৩৫)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা এলাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মহেন্দ্র দুপুর ১২টার দিকে পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের ভৈরব নগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে মহেন্দ্রটি রাস্তার উপর উল্টে গিয়ে মহেন্দ্র যাত্রী শারমিন সুলতানা ও তার ছেলে মুস্তাকিম ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন আরো আটজন। আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শকসহ দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে লালন শাহ টোলপ্লাজার কাছে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় এ দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। নিহতরা হলেন- পাবনা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক মোজাহারুল ইসলাম ও উপসহকারী পরিদর্শক (এসআই) কায়েজ আলী। তারা দু’জনেই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। নিহত মোজাহারুল ইসলামের বাড়ি রংপুরে এবং কায়েজ আলীর বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলায়। ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ঈশ্বরদীর রূপপুরে ছিলেন। সেতু এলাকায় টহল দিয়ে ভেড়ামারার টোলপ্লাজা হয়ে আবার রূপপুরের দিকে যাওয়ার পথে সেতু পার হয়ে টোলপ্লাজা অতিক্রম করার সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান সজোরে তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়েন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর কাভার্ড ভ্যানটি তাদের শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পাবনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। কাভার্ড ভ্যানটি পালিয়ে গেছে।
বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন- রাণীসংকৈল উপজেলার নেকমরদ নতুন মার্কেটের খায়রুল ইসলামের ছেলে সুমন (২০) ও একই উপজেলার গোয়াগাঁও কাতিহার গ্রামের মুনুর ছেলে সুজন (২০)
পুলিশ জানায়, সুমন সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী যাচ্ছিলেন। পথে জাউনিয়া মোড় এলাকায় পৌঁছালে সড়কে থাকা বালুতে মোটরসাইকেলের চাকা পেছলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ধাক্কা লেগে তিনি মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্য দিকে সুজন সোমবার রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হলদীবাড়ী থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চন্দনচহট এলাকায় ট্রাক থেকে ছিটকে পড়া তার মোটরসাইকেলের চাকা পেছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। এ সময় অপর একটি ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিনি ড্রাম ট্রাক মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ইব্রাহিম (৫১) নামের এক বাইক রাইডার নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ওই বাইকের আরোহী সালাউদ্দিন। নিহত ইব্রাহিম ঢাকা ডেমরার সারুলিয়া এলাকার ডগার পশ্চিম পাড়ার আবু তালেবের ছেলে। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রামের মিরশ্বানী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোটরসাইকেল চালক নিহত হন। আহত আরোহীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা প্রেরণ করেছি।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার এসআই তোফায়েল আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, পদ্মা সেতুর উপর এক বাসের পেছনে আরেক বাসের ধাক্কায় তোফায়েল মিয়া (২৭) নামে এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা ও বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত তোফায়েল মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ফকির মাহমুদ আকন কান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত অনুমান ২টার সময় ঢাকা থেকে কোয়াকাটাগামী পদ্মা স্পেশাল নামের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৪৩০৮) পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ২৯ নম্বর পিলার বরাবর পৌঁছলে হঠাৎ থেমে যায়। এ সময় একই দিক থেকে আসা ভাঙ্গাগামী বসুমতী পরিবহন নামের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৩৯৯৬) দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পেছনে ধাক্কা দিলে বসুমতি পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুছড়ে যায়। এতে বসুমতি বাসে থাকা হেলপার মো: তোফায়েল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আকবর হোসাইন (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ছালমা বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তার অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভূঁইয়াগাঁতী পল্লীবিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আকবর হোসাইন ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকবর হোসাইন স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে হাটিকুমরুল থেকে বগুড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ভূঁইয়াগাঁতী পল্লীবিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক (জ্যাক গাড়ি) মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি প্রায় ৬০ ফুট পর্যন্ত ছিটকে যায়। ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আকবর হোসাইনের মৃত্যু হয়।
একই ঘটনায় তার স্ত্রী ছালমা বেগম মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল কদ্দুস (৩৫) নামের একজন ভটভটি গাড়ির হেলপার নিহত হয়েছেন। তিনি জেলার ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের মোজাআটা গ্রামের মো: নইমুদ্দিনের ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের সরদারপাড়া বাজারের পূর্বপাশে এক ব্রিজের কাছে।
জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে বাহাদুরাবাদ মুখে দ্রুতগতিতে এক সাথে যাচ্ছিল বুলগেট (ট্রাক) ও একটি ইটবাহী ভটভটি গাড়ি। পাশাপাশি পাল্লাপাল্লি করে দ্রুত ব্যাগে যাওয়ার সময় সরদারপাড়া বাজারের পূর্ব পাশে একটি ব্রিজের পাশে পরস্পর ধাক্কা গেলে ইটবাহী ভটভটি গাড়িটির চালক ও হেলপারসহ রাস্তার পাশে গভীর খাদে পানিতে পড়ে যায়। এতে হেলপার আ: কদ্দুস ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং চালক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘাতক বুলগেটের চালক পালিয়ে গেছে।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, পার্বত্য জেলা বান্দরবানে মাদরাসায় পড়–য়া ছেলেকে দেখতে যাওয়ার পথে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা হাবিবুর রহমান (৪৫) নিহত হয়েছেন।
গতকাল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার বুলারতালুক সড়কের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিবুর রহমান সিরাজগঞ্জ জেলার পুঠিয়ার আহসান মোল্লার ছেলে বলে নিশ্চিত করছেন দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপ-পুলিশ পরিদশর্ক আবুদস সাত্তার।
তিনি জানান, মোটরসাইকেল যোগে তিনি বান্দরবান জেলায় মাদরাসায় পড়–য়া তার ছেলে দেখতে পাওয়ার পথে চট্টগ্রামগামী লাল সুবুজ ট্র্যাভেলের একটি বাস তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দোহাজারী হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।