চাটমোহরের মৎস্যজীবীপাড়ার ৪ শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ
এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রোষানলে পড়ে মৎস্যজীবী পাড়ার ভূমিহীনরা এখন অসহায়
Printed Edition
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলকুড়ালিয়ার বিলপাড়ের ধরইল মৎসজীবী পাড়ার চার শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। একটি অগভীর নলকূপ জবরদখল, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ভূমিহীনদের মারধর এবং হুমকির ঘটনার পর এ ঘটনা ঘটে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রোষানলে পড়ে মৎস্যজীবী পাড়ার ভূমিহীনরা এখন অসহায়।
অবরুদ্ধ মৎসজীবীরা রোববার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছে। এতে শত শত নারী-পুরুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় বক্তব্য দেন, ভূমিহীন নেতা আনোয়ার হোসেন, মৎস্যজীবী নেতা রায়হান আলী, চঞ্চল হোসেন, সিমা খাতুন, ইয়াসমিন খাতুন প্রমুখ।
মৎস্যজীবিরা অভিযোগ, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ধরইল গ্রামের চিহ্নিত চাঁদাবাজ রেজাউল, মজি ও নূর ইসলাম গং বিলকুড়ালিয়ায় ভূমিহীনদের জমিতে স্থাপিত স্থানীয় ইউপি সদস্য ওম্বর আলীর একটি অগভীর নলকূপ জবরদখলের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে ওম্বর আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামকে মারধর করে আহত করা হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর গত শনিবার ইউপি সদস্য ও ধরইল মৎসজীবী পাড়ার বাসিন্দা ওম্বও আলী তার আহত ছেলেকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখার জন্য যাচ্ছিলেন। পথি মধ্যে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রেজাউল-মজি গং তাকে বেধড়ক মারধর করে আহত করে। আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। এরপর থেকেই রেজাউল, মজি, নুর ইসলাম গং ধরইল মৎসজীবী পাড়ার চার শতাধিক পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য নুর ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম জানান, এ সব কর্মকাণ্ডের সাথে তারা জড়িত নন। তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সত্য নয়। চাটমোহর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকার বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে, এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। মৎস্যজীবীপাড়ার বাসিন্দারা যে অবরুদ্ধ, তা কেউ জানায়নি। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।