শীর্ষে কবিতা ও গল্পের বই

Printed Edition
back-3
একুশে বইমেলায় দর্শনার্থীরা : নয়া দিগন্ত

আবুল কালাম

বইমেলা শুরুর পর গত চার দিনে প্রকাশিত বইয়ের শীর্ষে রয়েছে কবিতা ও গল্পের বই। বাংলা একাডেমির তালিকা অনুযায়ী মোট ২৩টি বিষয়ভিত্তিক বইয়ের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত নতুন প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৯৬টি। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত কবিতার বই ২৫টি। গল্প ১৫টি। উপন্যাস ১৩টি। শিশুতোষ ৮টি এবং গবেষণা ৫টি। বাকি ১৭টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে প্রবন্ধ, ছড়া, জীবনী, রচনাবলী, মুক্তিযুদ্ধ, নাটক, বিজ্ঞান, ভ্রমণ, ইতিহাস, রাজনীতি, ভাষা, গণ-অভ্যুত্থান, অনুবাদ, অভিধান, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ও অন্যান্য। এর মধ্যে অন্যান্য বিষয়ে দু-একটি করে বই প্রকাশ পেলেও রচনাবলী, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, অভিধান, স্বাস্থ্য, গণ-অভ্যুত্থান ও ধর্মীয় বিষয়ে কোনো বই এখনো প্রকাশ পায়নি।

অমর একুশে বইমেলার ৪র্থ দিনে গতকাল নতুন বই এসেছে ৪২টি। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : হামিদুজ্জামান খান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাসিমুল খবির। আলোচনায় অংশ নেন আইভি জামান।

প্রবন্ধে নাসিমুল খবির বলেন, হামিদুজ্জামান খান ভাস্কর্য নির্মাণে পরিণত পর্বে ধাতব উপকরণের বাইরেও নানা উপকরণ ব্যবহার করে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। বিন্যাসের প্রয়োজনে কখনো কখনো কাঠ, পাথর, প্লাস্টিক, কাচ, কংক্রিট ইত্যাদি নানাবিধ উপকরণ ব্যবহার করেছেন। নির্মাণ সংখ্যা, উপকরণ ও গড়নের বৈচিত্র্য এবং উপস্থাপনায় অভিনবত্বে তার নির্মাণ সময় ও ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ও থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক ধারার ভাস্কর্য চর্চার পথিকৃৎ নভেরা আহমেদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাস্কর্য চর্চার সূচনাকারী অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের উত্তরসূরি হিসেবে অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খান অর্ধশত বছর জুড়ে যে বিস্তৃত শিল্পসম্ভার রচনা করেছেন তা অসামান্য। জীবনাবসানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি ছিলেন কর্মমুখর। একই সাথে ভাস্কর্যের শিক্ষক হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত যতœশীল। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগসহ বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগসমূহের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী তার সংস্পর্শে এসেছেন। ফলে আমরা আশা করতেই পারি তার উত্তর সাধকদের কর্মতৎপরতার মধ্য দিয়ে তিনি হাজির থাকবেন প্রাজ্ঞ পূর্বসাধক হিসেবে।

আইভি জামান বলেন, শিল্পী হামিদুজ্জামান খান তার কর্মমুখর জীবনে সৃষ্টিশীলতার মাঝেই সবসময় ডুবে থাকতেন। জীবনাবসানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি শিল্পসাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তার সৃষ্টিশীলতার স্মারক তিনি রেখে গেছেন। সেসব সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই তিনি সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন এ বি এম সোহেল রশিদ। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ইউসুফ রেজা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন, ফারহানা পারভীন তৃণা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আজগর আলীম, আবু বকর সিদ্দিক, নারায়ণ চন্দ্র শীল এবং সামীমা সুলতানা। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন- সঞ্জয় দাস (তবলা), রবিনস্ চৌধুরী (কী-বোর্ড), মো: হাসান আলী (বাঁশি), অনুপম বিশ^াস (দোতারা)।

আজ মেলা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং চলবে রাত ৯টায় পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সার্ধশত জন্মবর্ষ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন পারভেজ হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন সফিকুন্নবী সামাদী। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলায় ঐতিহ্য নিয়ে এসেছে শতাব্দীর কণ্ঠস্বর তাজউদ্দীন আহমদ : কন্যার চোখে, পুত্রের চোখে শারমিন আহমদ, সোহেল তাজ। মূল্য : ২৫০ টাকা। অনুক্ষণে নজরুল। মাওলা প্রিন্স। মূল্য : ৬৫০ টাকা। লেট দেয়ার বি বুলেট (জুলাই বিপ্লবগাথা)। আসাদুল ইসলাম। মূল্য : ২৫০ টাকা। মসনদে মোশতাক। সম্পাদনা : হিস্টরিক্যাল ট্রান্সপারেন্সি সোসাইটি। মূল্য : ১০০০ টাকা।