যে বার্তা দিয়ে গেল ইতালি
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
অভিষেকেই একটি জয়। যদিও সেই জয় প্রায় সমশক্তির নেপালের বিপক্ষে। নেপাল ক্রিকেট দলের এটি প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে খেলা নয়। আগেও তাদের ফাইট করার রেকর্ড আছে। এবার এই নেপাল শেষ ম্যাচে জিতেছিল। স্কটল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ১২ বছর পর পেয়েছে জয়। তবে এবার আলোচনায় ছিল ইতালি। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ইতালিয়ানদের সবাই চেনে ফুটবলের জন্য। চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী তারা। এ ছাড়া টেনিস, অ্যাথেটিক্সেও তাদের খেলোয়াড়দের সরব উপস্থিতি। তবে এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে ইতালিয়ানরা যে বার্তা দিয়ে গেছে তাতে সঠিক পরিচর্যা পেলে ক্রিকেটেও একসময় বিশ্ব শাসন করবে তারা।
যেকোনো খেলাধুলায় অর্থটা বড় বিষয়। সেই টাকা কিন্তু কোনো সমস্যা নয় শিল্পোন্নত দেশ ইতালির জন্য। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্য পেতে থাকলে তাদের পেছনেও ছুটবে স্পন্সররা। তখন তাদের দেশে বড় বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হবে। ইতালিয়ানরা বিভিন্ন দেশে ফ্রাঞ্চাইজি লিগ খেলতে যাবে। অভিজ্ঞতায় পুষ্ট হবে। তখন তারাও দাবিয়ে বেড়াবে বিশ্ব ক্রিকেট।
এবারের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে শুরু করেছিল ইতালি। স্কটিশদের ২০৭ রানের জবাবে ১৩৪-এ অলআউট ইতালি। তবে সেই ম্যাচে হ্যারি মানেন্তি তিন ছক্কা আর এক চারে ২৫ বলে ৩৭ রান করেন। বেঞ্জামিন মানেন্তি ৩১ বলে ৫২ রান তুলেছেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। জে জে স্মুটস ১১ বলে ২২ রান তুলতে দু’টি করে ছক্কা ও চার হাঁকিয়েছিলেন। নেপালের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে অপরাজিত ফিফটি জাস্টিন মস্কা ও অ্যান্থনি মস্কার। জাস্টিন ৬০ রান তুলেছেন ৪৪ বল খেলে। ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। অ্যান্থনির ইনিংস সাজানো ছিল তিন চার আর ছয় ছক্কায়। তিনি ৩২ বলে ৬২ রান করেছিলেন। বল হাতে কৃষান কালুগামাগে ১৮ রানে তিন উইকেট নেন। বেঞ্জামিন মানেন্তি ৯ রানে দুই নেপালি ব্যাটারকে আউট করেন।
ইংল্যান্ডের মতো সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বেঞ্জামিন মানেন্তি ও গ্র্যান্ট স্টিয়ার্ট যেভাবে ঝড় তুলেছিলেন তাকে হারের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল হ্যারি ব্রুকের দলের। ইংলিশদের ২০২ রানের জবাবে ১৭৮ এ অলআউট ইতালি। মানেন্তি ২৫ বলে ৬০ রান তুলেছিলেন। এতে ছিল ছয়টি ছক্কা ও চারটি চার। আর স্টিয়ার্ট হাঁকিয়েছেন পাঁচটি ছক্কা ও দুই চার। ২৩ বলে তার রান ছিল ৪৫। সেই ম্যাচেও ৩৪ বলে ৩৭ রান করেছিলেন জাস্টিন মস্কা। বল হাতে দু’টি করে উইকেট নিয়েছিলেন কালুগামাগে ও স্টিয়ার্ট। নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচেও জ্বলে ওঠে বেঞ্জামিন মানেন্তি ও জে জে স্মুটসের ব্যাট। মানেন্তি ২১ বলে ২৬ ও স্মুটস ২৭ বলে ২৪ করেন। এই ম্যাচে অ্যান্থনি মস্কা ১২ বলে ১৯ রান তোলেন। এতে ছিল দু’টি ছক্কা ও একটি চার। কালুগামাগে ও বেঞ্জামিন মানেন্তি দু’টি করে উইকেট নেন এই ম্যাচে।
যাদের নিয়ে ইতালি এবারের বিশ্বকাপে খেলেছে ও লড়াই করেছে একটি ম্যাচ জিতেছে সেই দলের বেশির ভাগই অপেশাদার খেলোয়াড়। জীবন চালাতে অন্য কাজ করেন। এরপর সময় পেলে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে নামেন। দলের ১৫ জনের ১২ জনই এই পরিচয়ে বিশ্বকাপের ক্রিকেটারের খেতাব পেয়েছেন। হয়েছেন ইতিহাসের সাক্ষী।
আসলে এখনো ইতালিয়ানদের পেশা হিসেবে ক্রিকেটকে নেয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। তারা নানান কাজ করেন এরপর ছুটিতে ক্রিকেট খেলেন। এই খেলতে খেলতেই তাদের বিশ্বকাপে আসা। অন্যদের মনে ভয় ধরিয়ে একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরা।
নেপালের বিপক্ষে জয়ের পর হ্যারি মানেন্তি তথ্য দিলেন, ‘আমাদের স্কোয়াড যদি দেখেন, ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনকেই ক্রিকেটের বাইরে অন্য কাজ করতে হয়। কালুগামাগে বিশ্বকাপে জয়ের ম্যাচে সে ম্যাচসেরা; কিন্তু জীবিকা নির্বাহে সে পিৎজা বানায় এবং সেই আয় থেকে অনুশীলনের খরচ জোগাড় করে।
নেপালিদের ১০ উইকেটে বধের নায়ক মস্কা ভ্রাতৃদ্বয়। এক ভাই জাস্টিন মস্কা সিডনির স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক। তার ভাই অ্যান্থনি মস্কা কিশোর সংশোধন সেন্টারে কাঠের কাজ শেখান। জৈন আলী প্রকৌশলী আর জসপ্রিত সিং ইংল্যান্ডে উবার চালিয়েছেন। এদের বাইরে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে কয়েকজন ক্রিকেটারের।
ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসে অপেশাদারদের নিয়ে ইতালির প্রথম জয়। ইতালি ফুটবল দলে কিন্তু সেই সুযোগ নেই। সেখানে তারা পূর্ণ পেশাদারি। তবু ফুটবলে তাদের বাজে সময় যাচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের ক্লাবগুলোও হেরে চলছে। ইতালিয়ানরা এখন মজে আছে শীতকালীন অলিম্পিকে। টি-২০ বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন ৬ ফেব্রুয়ারি মিলানে শুরু হয়েছে শীতকালীন অলিম্পিক। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে তাই শীতকালীন অলিম্পিক এবং ফুটবলের প্রাধান্যই বেশি। আর যেহেতু টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়েছে ইতালি তাই এ নিয়ে এখন আর আগ্রহও থাকবে না ইতালিয়ান মিডিয়ার। তবে এভাবে একের পর এক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্য এলে মিডিয়া কভারেজও বেশি করে জুটবে দেশটির ক্রিকেটারদের।